শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস ‘পল্লী–সমাজ’ নিয়ে পাঠচক্রের আসর করেছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভা। ২৬ জুন বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এটি অনুষ্ঠিত হয়।

পাঠচক্রে বন্ধুরা উপন্যাসটির সাহিত্যিক মূল্য, সামাজিক বাস্তবতা, মানবিক সংকট, নেতৃত্ব, নারীর অবস্থান ও সমাজ পরিবর্তনের ভাবনা নিয়ে গভীর আলোচনা করেন।

সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফ উদ্দিন বলেন, ‘পল্লী–সমাজ’ কেবল একটি গ্রামীণ জীবনের গল্প নয়; এটি ক্ষমতা, কুসংস্কার, সামাজিক বিভাজন ও ব্যক্তিস্বার্থের বিপরীতে মানবিকতা ও ন্যায়ের সংগ্রামের এক বাস্তবচিত্র। উপন্যাসে গ্রামীণ সমাজের দ্বন্দ্ব, প্রভাবশালী গোষ্ঠীর আধিপত্য ও সাধারণ মানুষের অসহায়ত্ব অত্যন্ত বাস্তবভাবে ফুটে উঠেছে।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভার পাঠচক্রের আসর।

বইমেলা সম্পাদক আদ্রিতা হক বলেন, ‘উপন্যাসটির প্রতিটি চরিত্র সমাজের একেকটি বাস্তবচিত্র। তাদের সংঘাতের মধ্য দিয়ে আমরা বুঝতে পারি, ব্যক্তি ও সমাজ একে অপরের পরিপূরক; একটির পরিবর্তন ছাড়া অন্যটির উন্নয়ন সম্ভব নয়।’

প্রচার সম্পাদক আল-ইসনাইন বলেন, ‘এই পাঠচক্র আমাকে উপলব্ধি করিয়েছে, একটি সাহিত্যকর্মের মূল্য শুধু তার গল্পে নয়, বরং পাঠকের চিন্তা ও বিবেককে কতটা নাড়া দিতে পারে, তার মধ্যেই নিহিত। “পল্লী–সমাজ” সেই কাজ সফলভাবেই করেছে।’

সমাপনী বক্তব্যে সভাপতি জাহিদ হাসান বলেন, ‘“পল্লী–সমাজ” আমাদের মনে করিয়ে দেয়, সমাজের সবচেয়ে বড় সংকট দারিদ্র্য নয়, সংকীর্ণ মানসিকতা। শরৎচন্দ্র সেই সংকীর্ণতার বিরুদ্ধে মানবিকতার ভাষায় প্রতিবাদ করেছেন।’

পাঠচক্র সঞ্চালনা করেন পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক হাসান করিম। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক মোহসিনা রহমান, মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা সম্পাদক বিবি মরিয়ম, ম্যাগাজিন সম্পাদক কাউছার আহমেদ প্রমুখ।