দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপির ১৬১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় বিএনপি। চলতি বছরের ১২ জুলাই দলের কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী হাইকমান্ডের নির্দেশক্রমে কমিটির অনুমোদন দেন।
পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পর থেকেই বরিশাল সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে নেতাকর্মীরা নবগঠিত কমিটির নেতাদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। প্রতিদিনই দলীয় কার্যালয়সহ বিভিন্ন এলাকায় নতুন কমিটির নেতাদের শুভেচ্ছা জানাতে ভিড় করছেন নেতাকর্মীরা।
ঘোষিত কমিটিতে বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক করা হয়েছে দলের ত্যাগী নেতা আলহাজ্ব নুরুল আমিনকে। সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সাইফুল ইসলাম আব্বাস।
এর আগে ২০২৫ সালে কেন্দ্রীয় বিএনপি বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপির তিন সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেছিল। ওই কমিটির নেতাদের প্রথমবার বরিশালে এলে কয়েক হাজার নেতাকর্মী তাদের বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা দেন। বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা উপস্থিত হয়ে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। সে সময় দলীয় কার্যালয় ও আশপাশের এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আলহাজ্ব নুরুল আমিন দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্কের কারণে তিনি বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপির একজন গ্রহণযোগ্য ও জনপ্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিত। তার নেতৃত্বে সংগঠন আরও শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন নেতাকর্মীরা।
পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন এবং ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।
এ সময় তারা বলেন, দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণায় সংগঠনে নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়েছে। আগামী দিনে দলকে আরও শক্তিশালী করতে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন।
তবে কমিটি ঘোষণার পর থেকেই একটি পক্ষের নেতাকর্মীরা অভিযোগ তুলেছেন, ঘোষিত কমিটিতে ‘গুপ্ত’, ‘হাইব্রিড’ এবং জামায়াতের সাবেক নেতাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ অভিযোগে তারা কয়েকদিন ধরে কমিটি বিলুপ্তির দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ, মানববন্ধন ও কালো পতাকা প্রদর্শন করেছেন।
সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক জিয়াউল হক সাবু বলেন, চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশ হলো দলে কোনো গুপ্ত বা হাইব্রিডের স্থান হবে না। কিন্তু সেই নির্দেশ অমান্য করে গুপ্ত, হাইব্রিড ও জামায়াতের লোকজন নিয়ে সদর উপজেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমরা এই কমিটি বাতিলের দাবিতে জানাচ্ছি।
অন্যদিকে বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপির নেতারা দাবি করেছেন, যারা বর্তমানে আন্দোলন করছেন তাদের অনেকেই অতীতে প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে ভোট চেয়ে মিছিল-সমাবেশ করেছেন। ফলে তাদের আন্দোলন অযৌক্তিক।
বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নুরুল আমিন বলেন, দলের জন্য দীর্ঘদিন কাজ করেছি। তার পুরস্কার পেয়েছি। আমি বিগত দিনে বিশেষ কিছু নেতার অপকৌশলের শিকার হয়েছি। আমাকে আহ্বায়ক থেকে ডিমোশন করে ৩ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছিল। তবুও দল ছেড়ে যাওয়া তো দূরের কথা, আরও বেশি সক্রিয় হয়ে সদর উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের সংগঠিত করে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। এজন্য দলীয় চেয়ারম্যান ও কেন্দ্রীয় নেতারা আমাকে পুরস্কৃত করেছেন। কিন্তু সেই কমিটির বিরুদ্ধে যারা আন্দোলন করছে, তারা বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে থাকা তো দূরের কথা, আওয়ামী লীগের হয়ে কাজ করেছে।
এ বিষয়ে বরিশাল জেলা দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আবুল হোসেন এমপি বলেন, কেন্দ্র কমিটি দেওয়ার এখতিয়ার রাখে। এ ক্ষেত্রে আমাদের কোনো মন্তব্য নেই।
বরিশাল বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান বলেন, ১২ জুলাই কেন্দ্র বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দিয়েছে। সে হিসেবে এই কমিটির বিরোধিতা করা মানে সংগঠনের বিরোধিতা করা। বিএনপি একটি বড় দল। এখানে একাধিক নেতৃত্ব থাকবে, সবাই যে মূল্যায়িত হবে এটা সঠিক নয়। সাংগঠনিকভাবে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতা করা উচিত ছিল। রাস্তায় আন্দোলন করা সঠিক সিদ্ধান্ত নয়। সবাইকে মিলেমিশে কাজ করতে হবে।
শাওন খান/এনএইচআর








