বরিশালে আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) ২৪৮ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বহিষ্কৃত নেতা মারজুক আব্দুল্লাহ।
গতকাল বৃহস্পতিবার বরিশালের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি করা হয়। আদালতের বিচারক এস এম শরীয়ত উল্লাহ অভিযোগ আমলে নিয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার মর্যাদার একজন কর্মকর্তাকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
তবে এই মামলায় মৃত চারজন আওয়ামী লীগ নেতাসহ একজন জামায়াতের ও কয়েকজন বিএনপি নেতাকেও আসামি করেছেন বাদী মারজুক। এ নিয়ে বরিশালে সমালোচনার ঝড় বইছে।
মামলায় আসামি করা চারজন আওয়ামী লীগ নেতা হলেন নগরের ১৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি খন্দকার রেজাউর রহমান রেজা, ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আবুল ফারুক হুমায়ুন, ২২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এইচ এম হাফিজুর রশিদ শিবলী ও ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী হাওলাদার।
এর মধ্যে ২১২ নম্বর আসামি নগরের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের খন্দকার রেজাউর রহমান মারা গেছেন ২০২২ সালের ২২ জানুয়ারি। ১৯৮ নম্বর আসামি ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আবুল ফারুকের মৃত্যু হয়েছে ২০২৩ সালের ২৫ মার্চ। ২০২১ সালের ১৯ অক্টোবর মারা যান ২২৫ নম্বর আসামি ২২ নম্বর ওয়ার্ডের হাফিজুর রশিদ শিবলী। ১৯৫ নম্বর আসামি ৫ নম্বর ওয়ার্ডের আলী হাওলাদার ২০২১ সালের ২৬ জুলাই মারা যান বলে জানা গেছে।
নগরের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর পলাতক রাজিব হোসেন ফেসবুক লাইভে জানিয়েছেন, তাঁর ওয়ার্ডের খন্দকার রেজাউর অনেক আগেই মারা গেছেন।
নগরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর সামসুদ্দোহা আবিদ জানান, তাঁর পার্শ্ববর্তী ওয়ার্ড ৭ ও ৬ নম্বরের প্রবীণ দুই আওয়ামী লীগ নেতা আবুল ফারুক এবং আলী হায়দার অনেক আগেই মারা গেছেন। ২২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক আহ্বায়ক আ. হালিম জানান, তাঁর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ নেতা শিবলী আর বেঁচে নেই।
জানা গেছে, এ মামলায় ১৬৪ নম্বর আসামি হিসেবে নগরীর ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর জামায়াত নেতা মনিরুজ্জামান তালুকদারের নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পরে অবশ্য কলম দিয়ে তাঁর নাম কেটে দিয়ে বাদী স্বাক্ষর করে দেন। মামলার ১৪৯ নম্বর আসামি ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ইউনুস মিয়া মূলত বিএনপি নেতা। ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর বিএনপি নেতা জিয়াউল হক মাসুমকে করা হয়েছে ১৫৮ নম্বর আসামি।
এ ছাড়া মামলার ১৭১ নম্বর আসামি মজিদা বোরহান ছিলেন সংরক্ষিত আসনের সাবেক কাউন্সিলর ও বিএনপি নেত্রী। তাঁর ছেলে জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম সুজন জানান, তাঁর মা মজিদা বোরহান ১৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির বর্তমান উপদেষ্টা। তাঁকে আসামি করা হয়েছে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাজিব মজুমদার জানিয়েছেন, এই মামলায় অস্ত্র, বিস্ফোরক, সন্ত্রাসবিরোধী আইন, হত্যার হুমকিসহ বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলাটির আসামির তালিকায় প্রথম সারিতে আছেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ, সাবেক এমপি জেবুন্নেছা আফরোজ, বরিশাল জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এ কে এম জাহাঙ্গীর, সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান রিন্টু, সিটি করপোরেশনের সাবেক প্যানেল মেয়র জিয়াউর রহমান বিপ্লব এবং রফিকুল ইসলাম খোকন।
মামলার বাদী বরিশাল নগরীর ১০ নম্বর ওয়ার্ড ক্লাব রোডের বাসিন্দা মারজুক আব্দুল্লাহ সাংবাদিকদের জানান, সাক্ষীদের ভুল তথ্য দেওয়ার কারণে এমনটা হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মারজুক এর আগে একাধিক মামলা করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকে বহিষ্কার হন। তিনি পটুয়াখালীর দুমকীতে একটি ডাকাতি মামলার আসামি। সম্প্রতি বরিশাল জিলা স্কুলের সামনে গণপিটুনির শিকার হন মারজুক। তিনি একাধিক বিয়ে করেও সমালোচিত হন।
এ প্রসঙ্গে বরিশাল নগরের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও ছাত্রলীগ নেতা রাজীব হোসেন খান বলেন, ‘মারজুক নামের যে ব্যক্তি মামলাটি করেছেন, তাঁকে বরিশালের সবাই মামলা ব্যবসায়ী চাঁদাবাজ বলে চেনেন। আগেও তিনি একটি মামলা করেছিলেন। এই মামলা যে ভুয়া, তার বড় প্রমাণ আসামি চারজন মৃত। তাঁরা কি কবর থেকে উঠে এসে বাদীর ওপর ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন?’








