বরিশালের উজিরপুরে মৎস্য বিভাগের অভিযানে প্রায় ৫০ লাখ টাকা মূল্যের নিষিদ্ধ জাল জব্দ করা হয়েছে। পরে জব্দ করা জালগুলো পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

বুধবার (২২ জুলাই) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত উপজেলার হারতা বাজারে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের যৌথ অভিযানে চায়না দুয়ারি জাল, কারেন্ট জাল ও বোডা জাল জব্দ করা হয়।

উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, অভিযানে মোট ১৯২টি চায়না দুয়ারি জাল, ১ লাখ ১০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল এবং ৮৯টি বোডা জাল জব্দ করা হয়। উদ্ধার করা এসব নিষিদ্ধ জালের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫০ লাখ টাকা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে হারতা বাজারসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে নিষিদ্ধ জালের বেচাকেনা চলছিল। এসব জাল ব্যবহার করে নদ-নদী, খাল-বিল ও উন্মুক্ত জলাশয়ে নির্বিচারে মাছ ও মাছের পোনা আহরণ করা হচ্ছিল। ফলে দেশীয় প্রজাতির মাছের প্রজনন, জলজ জীববৈচিত্র্য এবং প্রাকৃতিক মৎস্য সম্পদ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।

অভিযান চলাকালে বাজারে মজুত ও বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে রাখা বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ জাল জব্দ করা হয়। এ সময় সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয় এবং ভবিষ্যতে নিষিদ্ধ জাল বিক্রি, মজুত বা ব্যবহারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রসেন মজুমদার বলেন, মৎস্য সম্পদ রক্ষা এবং দেশীয় মাছের প্রজনন নিশ্চিত করতে নিষিদ্ধ জালের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। অবৈধ জাল বিক্রি, মজুত কিংবা ব্যবহারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অপরাধী যতই প্রভাবশালী বা ক্ষমতাধর হোক না কেন, কাউকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।

উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আলী সুজা বলেন, মৎস্য সম্পদ দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ। নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অবৈধ জালের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের যৌথ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

এইচআরএস/কেএইচকে