বরিশালে আবারও শুরু হয়েছে বিদ্যুতের অসহনীয় লোডশেডিং। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় ১ ঘণ্টা পরপর বিদ্যুৎ বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছে স্থানীয় বিদ্যুৎ বিভাগ। সরবরাহে এ ঘাটতির সবচেয়ে বেশি শিকার পল্লী বিদ্যুতের আওতায় থাকা গ্রাহকরা। উপজেলা সদর ও প্রত্যন্ত গ্রামগুলোয় একেকবার ২-৩ ঘণ্টা বন্ধ থাকছে বিদ্যুৎ সরবরাহ। পিক আওয়ারে বরিশাল নগরীতে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১০০ মেগাওয়াট।
এখানে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) দুটি বিভাগের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয় বিদ্যুৎ। নগরীর দক্ষিণাংশে থাকা বিতরণ বিভাগের আওতায় রয়েছে এখানকার অধিকাংশ শিল্প-কলকারখানা। এ অংশে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৬০ মেগাওয়াট। বাকি ৪০ মেগাওয়াট দরকার হয় নগরীর উত্তরাংশে থাকা তিনটি সাব-স্টেশনের আওতাধীন বিতরণ এলাকায়। এছাড়া কাশিপুর, বাকেরগঞ্জ এবং রুপাতলীতে থাকা গ্রিড সাব-স্টেশন আর পল্লী বিদ্যুতের সরবরাহ কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে বিদ্যুৎ যায় ঝালকাঠি, পিরোজপুরের স্বরূপকাঠিসহ জেলার অন্যান্য উপজেলায়। এসব এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদার পরিমাণ প্রায় ৩৫ মেগাওয়াট। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরুর প্রথমদিকে এ অঞ্চলে প্রায় তলানিতে নেমে এসেছিল বিদ্যুৎ সরবরাহ। পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও তিন-চার দিন ধরে আবার শুরু হয়েছে বিদ্যুতের অনবরত আসা-যাওয়া। নগরীতে থাকা বিদ্যুৎ সরবরাহের ৩২টি ফিডারে একই অবস্থা। পরিচয় না প্রকাশের শর্তে নগরীর পলাশপুর এলাকায় থাকা সাব-স্টেশনের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের এ ফিডারের আওতায় পিক আওয়ারে বিদ্যুতের চাহিদা ১৭ মেগাওয়াট। কিন্তু কয়েকদিন ধরে ৭-৮ মেগাওয়াটের বেশি সরবরাহ পাচ্ছি না। আমাদের এই সাব-স্টেশনে ছয়টি ফিডারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। পরিস্থিতি এমন যে সরবরাহ না পাওয়ায় কখনো কখনো একসঙ্গে চারটি ফিডারের বিদ্যুৎ সরবরাহ পর্যন্ত বন্ধ রাখতে হয়।
একই পরিস্থিতি নগরীতে বিদ্যুৎ সরবরাহের দায়িত্বে থাকা ওজোপাডিকোর অপর বিতরণ বিভাগে। ৬০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে তাদের ভাগ্যেও জুটছে না ৩০-৩২ মেগাওয়াটের বেশি। এই বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘শিল্পাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার একটা অলিখিত নির্দেশনা রয়েছে। আমাদের এ বিভাগে মোট চাহিদার বেশির ভাগই দিতে হয় শিল্পাঞ্চলে। যে কারণে সাধারণ গ্রাহকদের ওপর ভোগান্তি বেশি পড়ে। তার ওপর রয়েছে সরাসরি ঢাকা থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার ব্যবস্থা। গ্রিড থেকে যতটুকু বিদ্যুৎ নিতে বলা হয়, তার চেয়ে সামান্য বেশি নিলেও সরাসরি রাজধানী থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয় আমাদের বিদ্যুৎ সরবরাহ।’ বরিশালের উজিরপুর উপজেলার ধামুরা ইউনিয়নের বাসিন্দা আলী আকবর মীর বলেন, ‘আমাদের এখানে একবার বিদ্যুৎ গেলে আর ফিরে আসার নাম নেয় না। কখনো কখনো ৩-৪ ঘণ্টা পর্যন্ত থাকতে হয় বিদ্যুৎবিহীন। এ ঘটনা প্রতিদিন ৩-৪ বার ঘটে। বিষয়টি সম্পর্কে ওজোপাডিকোর কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তারা বলেন, ‘কবে নাগাদ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে, তা বলতে পারবে কেবল সরকার। আপনারা বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলুন।’








