বরিশালে রিহ্যাবের এক সদস্যকে মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং জোরপূর্বক স্ট্যাম্প ও চেকে স্বাক্ষর আদায়ের অভিযোগের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)। সংগঠনটি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা, ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আবাসন খাতে নিরাপদ ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিতে চার দফা দাবি জানিয়েছে।
সোমবার (৬ জুলাই) রাজধানীর ন্যাশনাল প্লাজার রিহ্যাব বোর্ড রুমে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান রিহ্যাব সভাপতি ড. আলী আফজাল। সংবাদ সম্মেলনে রিহ্যাব পরিচালনা পর্ষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, সহ-সভাপতি এ এফ এম ওবায়দুল্লাহ, পরিচালক শেখ কামাল, হাবিবুর রহমান হাবিব, সোহেল, রিহ্যাব সদস্য সুলতান আহমেদ প্রমুখ।
অনলাইনে উপস্থিত ছিলেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী বাকলা ডেভেলপার্স প্রাইভেট লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও অগ্রণী হাউজিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুল আজিজ হাওলাদার।
সংবাদ সম্মেলনে রিহ্যাব সভাপতি বলেন, সম্প্রতি বরিশালে রিহ্যাবের সদস্য প্রতিষ্ঠান বাকলা ডেভেলপার্স প্রাইভেট লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও অগ্রণী হাউজিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুল আজিজ হাওলাদারের ওপর অমানবিক শারীরিক নির্যাতন, সংবেদনশীল অঙ্গে আঘাত, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং জোরপূর্বক স্ট্যাম্প ও চেকে স্বাক্ষর আদায়ের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
ড. আলী আফজাল বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নেওয়া পদক্ষেপ রিহ্যাব গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে। ভিডিওতে যে দৃশ্য দেখা গেছে, তা শুধু একজন উদ্যোক্তার ওপর হামলাই নয়, বরং নিরাপদ ব্যবসায়িক পরিবেশের ওপরও আঘাত।
তিনি বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং কয়েকজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এজন্য পুলিশকে ধন্যবাদ জানাই। তবে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের দ্রুত জামিনের চেষ্টা এবং ভুক্তভোগীকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগগুলো সত্য হলে তা বিচারপ্রক্রিয়ার জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
রিহ্যাব সভাপতি বলেন, মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া চলাকালে ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে তারা কোনো ধরনের চাপ বা ভয় ছাড়াই আইনি লড়াই চালিয়ে যেতে পারেন।
তিনি বলেন, রিহ্যাব দেশের আবাসন খাতের সর্ববৃহৎ সংগঠন। এ খাতের উদ্যোক্তারা হাজার হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ করছেন, ৫০ লাখের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছেন এবং দেশের নগরায়ণ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তাই আবাসন খাতের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জাতীয় অর্থনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
ড. আলী আফজাল বলেন, ব্যবসায়িক বা আর্থিক বিরোধ থাকতেই পারে। কিন্তু ভয়ভীতি, চাঁদাবাজি, জোরজবরদস্তি কিংবা সহিংসতার মাধ্যমে কোনো দাবি আদায় সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়। এসব বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য দেশে আইন ও আদালত রয়েছে। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ নেই।
অভিযুক্তদের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে আলোচনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রিহ্যাব কোনো ঘটনাকে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখে না। কেউ কোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও সেটি বিবেচ্য নয়। অপরাধ করলে তার পরিচয় নয়, কর্মকাণ্ডই বিচার্য হওয়া উচিত। একইভাবে কোনো ডেভেলপার অন্যায় করলেও তার বিরুদ্ধেও আইনের মাধ্যমেই ব্যবস্থা নিতে হবে, জোরজবরদস্তির মাধ্যমে নয়।
সংবাদ সম্মেলনে রিহ্যাব সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিচার বিভাগের কাছে চার দফা দাবি জানায়।
দাবিগুলো হলো-ঘটনার নিরপেক্ষ, দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করা, অভিযোগ প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া, ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে আবাসন খাতের উদ্যোক্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ।
রিহ্যাবের ভাষ্য, নিরাপদ ও ন্যায়ভিত্তিক ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত হলেই দেশে বিনিয়োগ ও আবাসন খাতের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব।
ইএআর/এসএনআর








