বর্ষাকাল অনেকের কাছে স্বস্তির হলেও অ্যাজমা রোগীদের জন্য এই সময়টি বেশ চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। বাতাসে আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়া, ছত্রাক (মোল্ড) জন্মানো, ধুলাবালির সঙ্গে অ্যালার্জেনের উপস্থিতি এবং ভাইরাল সংক্রমণের প্রকোপ-সব মিলিয়ে এ সময়ে শ্বাসকষ্টের সমস্যা বেড়ে যেতে পারে। তাই বর্ষায় কিছু নিয়ম মেনে চললে অ্যাজমার আক্রমণের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
কেন বর্ষায় অ্যাজমার সমস্যা বাড়ে?
বর্ষাকালে বাতাসে আর্দ্রতার মাত্রা বেড়ে যায়। অতিরিক্ত আর্দ্র পরিবেশে ছত্রাক, ধুলাবাহিত অতি ক্ষুদ্র জীবাণু (ডাস্ট মাইট) ও বিভিন্ন ধরনের অ্যালার্জেন দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এছাড়া আবহাওয়ার আকস্মিক পরিবর্তন এবং ভাইরাল সংক্রমণও শ্বাসনালিতে প্রদাহ সৃষ্টি করে অ্যাজমার উপসর্গ বাড়িয়ে দিতে পারে।
আরও পড়ুন
বৃষ্টির দিনে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে যা খাবেন
বর্ষায় অ্যাজমা রোগীদের যেসব বিষয় অবশ্যই মানা উচিত
ঘর শুকনো ও পরিষ্কার রাখুন
ঘরের দেয়াল, বাথরুম, রান্নাঘর বা স্যাঁতসেঁতে কোণায় ছত্রাক জন্মাতে দেবেন না। নিয়মিত পরিষ্কার করুন এবং সম্ভব হলে ঘরে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখুন।
ধুলাবালি ও অ্যালার্জেন থেকে দূরে থাকুন
বিছানার চাদর, বালিশের কভার ও পর্দা নিয়মিত গরম পানিতে ধুয়ে ফেলুন। কার্পেট ও নরম খেলনায় ধুলা জমলে তা অ্যাজমার ট্রিগার হতে পারে।
ইনহেলার সব সময় সঙ্গে রাখুন
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত কন্ট্রোলার ইনহেলার ব্যবহার করুন। জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহারের রিলিভার ইনহেলার সব সময় কাছে রাখুন।
বৃষ্টিতে ভিজে গেলে দ্রুত শুকনো কাপড় পরুন
অনেকের ক্ষেত্রে ঠান্ডা ও ভেজা পরিবেশ শ্বাসকষ্ট বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই বৃষ্টিতে ভিজলে যত দ্রুত সম্ভব শুকনো কাপড় পরে নিন।
সর্দি-কাশিকে অবহেলা করবেন না
ভাইরাল সংক্রমণ অ্যাজমার তীব্রতা বাড়াতে পারে। কয়েক দিনের বেশি কাশি, জ্বর বা শ্বাসকষ্ট থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
আরও পড়ুন
শিশুর ডায়রিয়া এড়াতে বর্ষায় বাদ দিন এই খাবার
ধূমপান ও ধোঁয়া সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলুন
সিগারেটের ধোঁয়া, মশার কয়েল, ধূপ বা রান্নার অতিরিক্ত ধোঁয়া শ্বাসনালিকে উত্তেজিত করে অ্যাজমার উপসর্গ বাড়াতে পারে।
পর্যাপ্ত পানি পান করুন
পর্যাপ্ত পানি পান করলে শরীর আর্দ্র থাকে এবং শ্বাসনালির শ্লেষ্মা পাতলা হতে সাহায্য করে, ফলে কাশি ও শ্বাসকষ্ট কিছুটা কমতে পারে।
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করবেন না
উপসর্গ কমে গেলেও নিজের সিদ্ধান্তে ওষুধ বা ইনহেলার বন্ধ করা ঠিক নয়। এতে হঠাৎ অ্যাজমার তীব্র আক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
আরও পড়ুন
সিঁড়ি ভাঙলেই ক্লান্ত? কারণটা শুধু অলসতা নয়
কোন লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যাবেন?
- ইনহেলার ব্যবহারের পরও শ্বাসকষ্ট না কমা।
- কথা বলতে বা হাঁটতে কষ্ট হওয়া।
- শ্বাস নিতে গিয়ে বুক বা পাঁজর ভেতরে ঢুকে যাওয়া।
- ঠোঁট বা আঙুল নীলচে হয়ে যাওয়া।
- দ্রুত শ্বাস নেওয়া বা তীব্র হাঁপানি অনুভব করা।
- বর্ষায় স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনও গুরুত্বপূর্ণ
অ্যাজমা নিয়ন্ত্রণে শুধু ওষুধ নয়, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনও গুরুত্বপূর্ণ। পুষ্টিকর খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত হালকা ব্যায়াম (চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী) এবং মানসিক চাপ কমানোর চেষ্টা করলে রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়।
আরও পড়ুন
চা-কফি ছাড়াও সারাদিন সতেজ থাকার সহজ উপায়
অ্যাজমা পুরোপুরি নিরাময়যোগ্য না হলেও সঠিক চিকিৎসা, নিয়মিত ইনহেলার ব্যবহার এবং বর্ষাকালে বাড়তি সতর্কতা মেনে চললে বেশিরভাগ রোগীই স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন। শ্বাসকষ্টকে কখনোই অবহেলা করবেন না। উপসর্গ বেড়ে গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত।
তথ্যসূত্র: এনএইচএস, মায়ো ক্লিনিক
জেএস/








