বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, টানা বৃষ্টি কিংবা দীর্ঘ সময়ের বিদ্যুৎ বিভ্রাট এ ধরনের পরিস্থিতিতে স্মার্টফোন শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং জরুরি যোগাযোগের অন্যতম ভরসা। পরিবারের সদস্যদের খোঁজ নেওয়া, জরুরি সেবা ডাকা, আবহাওয়ার আপডেট জানা কিংবা প্রয়োজনে আর্থিক লেনদেন সবকিছুর জন্যই ফোন সচল থাকা জরুরি। কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকলে চার্জ শেষ হয়ে গেলে বিপদ আরও বেড়ে যেতে পারে।

তাই জরুরি পরিস্থিতিতে ফোনের চার্জ যতটা সম্ভব দীর্ঘ সময় ধরে রাখতে কিছু কৌশল জানা থাকা দরকার। নিচে এমন ১০ কার্যকর উপায় তুলে ধরা হলো।

১. ব্যাটারি সেভার মোড চালু করুন

প্রায় সব অ্যান্ড্রয়েড ও আইফোনেই ব্যাটারি সেভার বা লো পাওয়ার মোড রয়েছে। এটি চালু করলে ব্যাকগ্রাউন্ডে চলা অপ্রয়োজনীয় কাজ কমে যায়, প্রসেসরের ব্যবহার সীমিত হয় এবং ব্যাটারি অনেক ধীরে শেষ হয়।

২. স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা কমিয়ে রাখুন

স্মার্টফোনে সবচেয়ে বেশি চার্জ খরচ করে ডিসপ্লে। তাই স্ক্রিনের ব্রাইটনেস যতটা সম্ভব কমিয়ে ব্যবহার করুন। অটো-ব্রাইটনেস বন্ধ রাখলে অনেক সময় অপ্রয়োজনীয়ভাবে উজ্জ্বলতা বেড়ে যায় না।

আরও পড়ুন

স্মার্টফোন দামি হলেই কি ভালো?

৩. মোবাইল ডাটা, ব্লুটুথ ও জিপিএস বন্ধ রাখুন

যখন এগুলোর প্রয়োজন নেই, তখন মোবাইল ডাটা, ব্লুটুথ, জিপিএস (লোকেশন) এবং এনএফসি বন্ধ রাখুন। এসব ফিচার সব সময় সক্রিয় থাকলে ব্যাটারির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে।

৪. দুর্বল নেটওয়ার্কে অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার এড়িয়ে চলুন

যেখানে মোবাইল নেটওয়ার্ক দুর্বল, সেখানে ফোন বারবার সিগন্যাল খুঁজতে থাকে। এতে দ্রুত চার্জ শেষ হয়। যদি কিছু সময় ফোন ব্যবহার করার প্রয়োজন না থাকে, তাহলে এয়ারপ্লেন মোড চালু রাখতে পারেন।

৫. অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ বন্ধ করুন

অনেক অ্যাপ ব্যবহার না করলেও ব্যাকগ্রাউন্ডে চলতে থাকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, গেম বা ভিডিও অ্যাপ বন্ধ রাখুন। ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপ রিফ্রেশ বা ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাক্টিভিটিও সীমিত করতে পারেন।

৬. ভিডিও দেখা ও গেম খেলা কমিয়ে দিন

জরুরি পরিস্থিতিতে ফোনের চার্জ বিনোদনের জন্য নয়, যোগাযোগের জন্য সংরক্ষণ করাই ভালো। ভিডিও স্ট্রিমিং, অনলাইন গেম এবং দীর্ঘ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করলে ব্যাটারি দ্রুত শেষ হয়ে যায়।

৭. ভাইব্রেশন ও অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন বন্ধ করুন

প্রতিটি নোটিফিকেশন স্ক্রিন জ্বালায় এবং অনেক ক্ষেত্রে ভাইব্রেশন চালু হয়। প্রয়োজন ছাড়া নোটিফিকেশন বন্ধ রাখুন এবং রিংটোন ব্যবহার করুন। এতে কিছুটা হলেও চার্জ সাশ্রয় হবে।

৮. ডার্ক মোড ব্যবহার করুন

যেসব ফোনে ওএলইডি বা অ্যামোলেড ডিসপ্লে রয়েছে, সেখানে ডার্ক মোড ব্যবহার করলে বিদ্যুৎ খরচ কম হয়। পাশাপাশি কালো রঙের ওয়ালপেপার ব্যবহার করলেও সামান্য ব্যাটারি সাশ্রয় হতে পারে।

৯. জরুরি যোগাযোগের জন্য ফোন ব্যবহার করুন

চার্জ কম থাকলে অপ্রয়োজনীয় কল, ভিডিও কল বা দীর্ঘ আলাপ এড়িয়ে চলুন। প্রয়োজন হলে ভিডিও কলের বদলে সাধারণ কল বা টেক্সট মেসেজ ব্যবহার করুন, কারণ এতে তুলনামূলক কম ব্যাটারি খরচ হয়।

১০. পাওয়ার ব্যাংক থাকলে বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে ব্যবহার করুন

পাওয়ার ব্যাংক থাকলেই বারবার ফোন চার্জে দেবেন না। বরং ব্যাটারি ২০-৩০ শতাংশের নিচে নেমে এলে চার্জ দিন। একই সঙ্গে পাওয়ার ব্যাংকের চার্জও অপ্রয়োজনীয়ভাবে নষ্ট করবেন না, কারণ বিদ্যুৎ কবে আসবে তা আগে থেকে জানা নাও থাকতে পারে।

অতিরিক্ত কিছু পরামর্শ

  • আগে থেকেই ফোন সম্পূর্ণ চার্জ করে রাখুন, যদি আবহাওয়ার পূর্বাভাসে ঝড় বা বন্যার আশঙ্কা থাকে।
  • সম্ভব হলে একটি চার্জ করা পাওয়ার ব্যাংক সঙ্গে রাখুন।
  • সৌরশক্তিচালিত চার্জার থাকলে সেটিও জরুরি সময়ে কাজে লাগতে পারে।
  • জরুরি ফোন নম্বরগুলো কাগজে লিখে রাখুন, যাতে ফোন বন্ধ হয়ে গেলেও প্রয়োজনীয় যোগাযোগ করা যায়।
  • ব্যাটারি অতিরিক্ত গরম বা ভেজা অবস্থায় ফোন চার্জ দেওয়ার চেষ্টা করবেন না।

কেন চার্জ সংরক্ষণ এত গুরুত্বপূর্ণ?

দুর্যোগের সময় অনেক এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা, কখনো কয়েক দিনও বিদ্যুৎ থাকে না। এমন পরিস্থিতিতে একটি সচল স্মার্টফোন জীবনরক্ষাকারী ভূমিকা পালন করতে পারে। উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে যোগাযোগ, পরিবারের সদস্যদের অবস্থান জানা, সরকারি নির্দেশনা পাওয়া কিংবা জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নেওয়ার জন্য ফোন সচল থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কিছু সহজ অভ্যাস গড়ে তুললেই একই চার্জে স্মার্টফোন অনেক বেশি সময় ব্যবহার করা সম্ভব। তাই দুর্যোগের সময় অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার কমিয়ে ফোনের ব্যাটারি সংরক্ষণ করাই হবে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

আরও পড়ুন

গরমে যেভাবে স্মার্টফোনের যত্ন নিলে কমবে বিস্ফোরণের ঝুঁকি

কেএসকে