রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে বাসা দেখার নাম করে একটি ফ্ল্যাটে ঢুকে সদস্যদের হাত-পা বেঁধে জিম্মি করে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় লুণ্ঠিত নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধারসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কামরাঙ্গীরচর থানা।

পুলিশ বলছে, এই ডাকাতির ঘটনায় একই ভবনের এক গৃহবধূর পরিকল্পনা ও নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ চক্রটি কাজ করেছে। আবার ওই গৃহবধূই এ ঘটনার সাক্ষী হিসেবে মামলায় নাম দিয়েছন। আবার শান্তনা দিতে ভুক্তভোগী পরিবারের পাশেও দাঁড়ান একই ব্যক্তি।

বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর মিন্টুরোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান লালবাগ বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান।

গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলো জিয়াসমিন ওরফে জেসমিন (৩৭), সজীব আলম (২৯), রিপন মিয়া (৪২) ও ফারুক খান (৫০)।

এসময় তাদের কাছ থেকে নগদ ২ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং এক জোড়া স্বর্ণের দুল, এক জোড়া বালা, একটি ব্রেসলেট, এক জোড়া চুড়ি, এক জোড়া ঝুমকা ও এক জোড়া পাশা উদ্ধার করা হয়েছে।

মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, গত ১৮ জুলাই সন্ধ্যায় কামরাঙ্গীরচরের মাহদীনগর এলাকায় রক্সি গলি-সংলগ্ন একটি ১০তলা ভবনের পঞ্চম তলার একটি ফ্ল্যাটে বাসা দেখার কথা বলে পাঁচজন প্রবেশ করেন। পরে ফ্ল্যাটে থাকা তিন নারীকে হাত-পা বেঁধে মারধর করে প্রায় ২০ লাখ টাকা, প্রায় তিন ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও চারটি মোবাইল ফোন লুট করে পালিয়ে যান।

ঘটনার পর আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযানে নামে পুলিশ। পরে বুধবার দিবাগত রাতে প্রথমে মুসলিমবাগ এলাকা থেকে সজীব আলমকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রিপন মিয়াকে গ্রেফতার করে তার বাসা থেকে এক লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। পরে একই রাতে চাঁদ মসজিদ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফারুক খানকে গ্রেফতার করা হয়। তার বাসা থেকে আরও এক লাখ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই ভবনের সপ্তম তলায় বসবাসকারী গৃহবধূ জিয়াসমিন ওরফে জেসমিনকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

তালেবুর রহমান বলেন, জেসমিনের ভুক্তভোগীদের বাসায় নিয়মিত যাতায়াত ছিল। এ কারণে তিনি বাসায় বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা থাকার বিষয়টি জানতেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই তিনি পরিচিত কয়েকজনকে নিয়ে ডাকাতির পরিকল্পনা করেন। ঘটনার দিন তিনি নিজেই ডাকাত দলের সদস্যদের ভবনে প্রবেশে সহায়তা করেন এবং ডাকাতির পর তাদের নিরাপদে বেরিয়ে যেতে সহযোগিতা করেন। এছাড়াও ডাকাতির পর তিনি আবার ভুক্তভোগীদের বাসায় গিয়ে তাদের সান্ত্বনা দেন। এমনকি এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় নিজেই সাক্ষী হন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ ঘটনায় মোট আটজন জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। গ্রেফতারকৃত চারজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বাকি অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

কেআর/এসএনআর