বিশ্ব মিডিয়া বা গবেষকরা কেন যে ঢাকার ‘পেছনে’ লেগেছে কে জানে! তাই তো বাসযোগ্য নগরীর তালিকায় ‘পেছন’ থেকে তৃতীয় করা হয়েছে! অর্থাৎ বসবাস অযোগ্য নগরীর তালিকায় থার্ড! অথচ আমাদের তিলোত্তমা নগরী যদি বাস অযোগ্যই হতো, তাহলে প্রতিদিন বানের স্রোতের মতো মানুষ এখানে বাস করতে আসত? তাছাড়া নগরের জনসংখ্যার দিক থেকে পৃথিবীর দ্বিতীয় স্থানেই বা এলো কী করে? এসব প্রশ্নের জবাব আপনি অল্প ক্ষণেই পেয়ে যাবেন, শুধু পড়তে থাকুন।

এই ঢাকায় আপনি এমন কিছু সুযোগ পাবেন, যা বিশ্বের অন্য কোনো উন্নত কিংবা অনুন্নত কোনো শহরেই পাবেন না। ফলে জীবন আরও সহজ ও ছন্দময় করতে ঢাকার তুলনা কেবল ঢাকাই!

আপনি কলা কিংবা যে কোনো খাবার খেতে খেতে হাঁটছেন। খাওয়া শেষ, এখন খোসা কিংবা ময়লা কোথায় ফেলবেন? কোনো চিন্তা নেই, এটা ঢাকা-আপনি জাস্ট হাত থেকে ফেলে দিন! সেটা হাতের নিচের দিকেই হোক অথবা ডানে-বামে কিংবা সামনে; ময়লা ফেলার বিস্তর জায়গা আছে। কেননা পুরো নগরীই ময়লার স্তূপ। এখানে এক-আধটু ময়লা ফেলতে ডাস্টবিন খুঁজতে হয় না, এটা ঢাকার গুণ! সমালোচকরা বেগুন বললে রাগ করবেন না।

স্ট্রিট ফুডের জন্য জগদ্বিখ্যাত ঢাকা, বিশেষ করে মোহাম্মদপুর। খাবেন কিন্তু টাকা নাই, সমস্যাও নাই! আপনি কারও কাছ থেকে টাকা ছিনতাই করুন অথবা কোনো দোকানে খেয়ে ‘চাঁদার’ খাতে লিখিয়ে রাখতে পারেন। কোনো সমস্যা নেই, এটা ঢাকা। আবার যদি কোনো সমস্যা ফেস করেনও, এ ধরেন পুলিশ চলে এলো আপনি ছিনতাই করার সময়। চিন্তা নেই, ঢাকার ম্যানহোলগুলো আছে আপনার সেবায়। সবসময় ঢাকনা ছাড়া খোলাই থাকে। জাস্ট টুপ করে ঢুকে পরুন।

ঢাকা ঘুরবেন ৪-৫ জন একসঙ্গে অথচ পরিবহণ বাজেট কম, সে ব্যবস্থাও আছে। আমেরিকায় ইলন মাস্ক একজন, আর ঢাকায় প্রতিটি অলিগলিতে ইলন মাদক আর টেসলার অভাব নাই। খুব কম বাজেটে আপনাকে অটোরিকশা সাপ্লাই দিচ্ছে তারা। যেসব রাস্তায় ভিআইপি ঢুকতেও দ্বিধাবোধ করে, সেসব রাস্তায় ঢাকার টেসলাখ্যাত এসব অটোরিকশা অবলীলায় ঢুকে পড়ে। তাছাড়া আপনার একান্তই কর্মসংস্থান সমস্যা হলে অল্প পুঁজিতে মশার কয়েল কিংবা ইলেক্ট্রিক মশা মারার ব্যাটের ব্যবসা করতে পারেন। কারণ ৩ কোটি ৬৬ লাখ নাগরিকের জন্য মিনিমাম ৩০০ কোটি মশার ব্যবস্থা আছে। মশক জনসংখ্যার বিচারে পৃথিবীর ১ নম্বর নগরী কিন্তু ঢাকা। মশাদের জন্য পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আশ্রয়ণ প্রকল্প বলা যেতে পারে এই ঢাকাকে। কেননা এত বিশাল প্রাণিকুলের থাকা-খাওয়ার বন্দোবস্ত দুনিয়ার আর কোথাও দেখা যায় না।

আর এ নগরীর প্রধান বৈশিষ্ট্যই হলো শব্দদূষণ আর বায়ুদূষণ। আপনি ইচ্ছামতো চিল্লাচিল্লি বা গাড়ির হর্ন বাজাবেন কেউ কিছু বলবে না। যে কোনো রকম ধোঁয়া বা বায়ু আপনি যে কোনো জায়গায় যখন-তখন নির্গত করতে পারবেন। তাই অনেকে অফিসেও মাস্ক পরে থাকেন কেননা বায়ুদূষণের স্বাধীনতা ঢাকার চেয়ে বেশি আর কোথাও পাবেন না।

ঢাকার আরেকটি ঐতিহ্য হচ্ছে জট। যানজট বলেন অথবা ইন্টারনেটের তারজট-রাস্তায় নামলেই দেখতে পাবেন। মানুষের মাথায়ও এত চুল নেই, যে পরিমাণে ইন্টারনেটের তার ঢাকাবাসী মাথায় নিয়ে ঘুরে। তাই হাইরাইজ বিল্ডিং থেকে নিচে তাকালে আপনি কোনো ‘টাক’ মাথার লোক দেখতে পাবেন না, মনে হবে সবারই মাথা ভরা চুল!

এ শহরের পরতে পরতে কর্মসংস্থান, তাই ঢাকায় থাকতে পছন্দ করে মানুষ। দীর্ঘ যানজটে পুরো রাস্তাজুড়ে সৃস্টি হয় শপিংমল! তাজা সবজি থেকে মোবাইল এক্সেসরিজ-কী পাবেন না এখানে! অবশ্য সঙ্গে ভিক্ষুক ফ্রি! এরপরও যদি কেউ পণ্য বিক্রির জায়গা না পায়, তার জন্য পুরো রাস্তা ওপেন আছে। শুধু একটি ভ্যান জোগাড় করতে পারলেই দোকান বসানো কোনো ব্যাপারই না। এরপরও বলবেন, ঢাকা বসবাসের অযোগ্য? সুতরাং ওয়েলকাম টু ঢাকা!