পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় দুই বিএনপি নেতার নেতৃত্বে নাসির উদ্দিন মৃধা (৪০) নামের এক যুবককে অপহরণ করে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের জন্য হাত-পা বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯ থেকে ফোন পেয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে উপজেলার ইঞ্জিনিয়ার ফারুক তালুকদার মহিলা কলেজ এলাকা থেকে তাঁকে উদ্ধার করে পুলিশ।

ভুক্তভোগী নাসির উদ্দিন উপজেলার চরআলগী গ্রামের বাসিন্দা। গতকাল বেলা ১টার দিকে পটুয়াখালী শহরের হেতালিয়া বাঁধঘাট এলাকা থেকে তাঁকে অপহরণ করে বাউফলে আনা হয় বলে অভিযোগ। অভিযুক্ত নেতারা হলেন উপজেলা বিএনপির সদস্য ও দাসপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আলী আজম চৌধুরী এবং বাউফল পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুম বিল্লাহ।

নাসির উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, গতকাল সকালে তিনি একটি মামলায় হাজিরা দিতে পটুয়াখালী আদালতে গিয়েছিলেন। ফেরার পথে বেলা সোয়া একটার দিকে পটুয়াখালী শহরের হেতালিয়া বাঁধঘাট এলাকায় গেলে অপরিচিত একজন তাঁর (নাসির) পরিচয় জানতে চান। পরিচয় দেওয়ার পর তিনি তাঁর মুঠোফোন ছিনিয়ে নেন। ততক্ষণে বিএনপি নেতা আলী আজমের নেতৃত্বে একটি দল তাঁকে ঘিরে ফেলেন এবং দাসপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান এ এন এম জাহাঙ্গীর হোসেন কোথায় আছেন জানতে চান। তিনি জানেন না জানালে তাঁকে (নাসির) একটি মোটরসাইকেলে করে তুলে কয়েকটি মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে বাউফলে নিয়ে আসেন। পরে তাঁকে ফারুক তালুকদার মহিলা কলেজ এলাকায় বিএনপি নেতা মাসুম বিল্লাহর ব্যক্তিগত কার্যালয়ে নিয়ে হাত-পা বেঁধে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। দিতে না চাইলে পিটিয়ে আহত করার পাশাপাশি হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। পরে বিকেলে তাঁকে উদ্ধার করে পুলিশ।

নাসির উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, অপহরণের পর তাঁর বিকাশ নম্বর থেকে তিন হাজার টাকা ও সঙ্গে থাকা সাড়ে তিন হাজার টাকা তাঁর কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় তিনি আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দাসপাড়া ইউপির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসেনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে বিএনপি নেতা আলী আজমের। নাসির উদ্দিন ওই ইউপি চেয়ারম্যানের একনিষ্ঠ সমর্থক। পেশায় তিনি একজন কৃষক ও তাঁর গরুর খামার আছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি নেতা আলী আজম চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, নাসির উদ্দিন একজন মাদক ব্যবসায়ী। অপহরণের কোনো ঘটনার সঙ্গে তিনি জড়িত নন। অন্যদিকে বিএনপি নেতা মাসুম বিল্লাহ বলেছেন, ‘এটা অসত্য। অপহরণের মতো কোনো ঘটনার সঙ্গে আমি জড়িত না।’

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ৯৯৯ থেকে ফোন পেয়ে অপহৃত ব্যক্তিকে উদ্ধারে তৎপর হয় পুলিশ। বেলা সাড়ে তিনটার দিকে তাঁকে উদ্ধার করা হয়। পরে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। প্রথম ঘটনা যেহেতু পটুয়াখালী সদর থানা এলাকার মধ্যে। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হলে ওই থানায় যেতে হবে।