নাটোরের লালপুর উপজেলার আব্দুলপুর সরকারি কলেজের প্রতারণার শিকার আটজন এইচএসসি পরীক্ষার্থীর শিক্ষাবর্ষ রক্ষা পেয়েছে। রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের জরুরি হস্তক্ষেপে তাঁদের প্রবেশপত্র প্রস্তুতের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। কলেজ কর্তৃপক্ষকে দ্রুত প্রবেশপত্র বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রথম পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারলেও বাকি সব পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন তাঁরা।

শুক্রবার (৩ জুলাই) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আব্দুলপুর সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মামুদুর রহমান। তিনি জানান, শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র বিতরণ করা হবে। তাঁরা শনিবার (৪ জুলাই) থেকে পরীক্ষায় অংশ নেবেন।

মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড রাজশাহীর পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ইফফাত জেরিন বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র প্রস্তুতের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কলেজ কর্তৃপক্ষকে দ্রুত তা বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁরা বাকি পরীক্ষাগুলোতে অংশ নিতে পারবেন। প্রথম পরীক্ষার বিষয়ে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাওয়া শিক্ষার্থীরা হলেন ইসরাত জাহান সূচি, সবুজ আহমেদ, শিমুল শেখ, আকিবুল ইসলাম, তানভীর হোসেন, শিমুল আলী, সাব্বির হোসেন ও শাওন। শিক্ষা বোর্ডের এই উদ্যোগে তাঁরা স্বস্তি প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের এসব শিক্ষার্থী ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় সার্ভার জটিলতায় পড়েন। পরে গত ১২ মার্চ বিলম্ব ফিসহ ফরম পূরণের জন্য কলেজে গেলে অফিস সহকারী অমিত কুমার সরকার প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা নেন। তিনি ফরম পূরণ করে দেওয়ার আশ্বাস দিলেও শেষ পর্যন্ত তা সম্পন্ন করেননি।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান সূচি বলেন, ‘টাকা নেওয়ার পর দীর্ঘদিন নানা অজুহাতে আমাদের অপেক্ষা করানো হয়। শেষ পর্যন্ত ১ জুলাই জানতে পারি, আমাদের কারও ফরমই পূরণ করা হয়নি।’

আরেক শিক্ষার্থী আকিবুল ইসলাম বলেন, ‘বিভিন্ন অজুহাতে আমাদের আশ্বস্ত করা হয়েছিল। কিন্তু পরীক্ষা শুরু হওয়ার দিন প্রবেশপত্র না থাকায় প্রথম পরীক্ষায় অংশ নিতে পারিনি।’

ইসরাত জাহান সূচির বাবা ইমামুল হক বলেন, ‘একজন কর্মচারীর অবহেলায় আটজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছিল। শিক্ষা বোর্ড দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় আমরা স্বস্তি পেয়েছি। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।’

অভিযোগের বিষয়ে অফিস সহকারী অমিত কুমার সরকার শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘ফরম পূরণের চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু সফল হইনি। এ জন্য আমি দুঃখিত। শিক্ষার্থীদের টাকা ফেরত দেওয়া হবে।’ তবে কলেজ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া তিনি কীভাবে এই দায়িত্ব নিয়েছিলেন, সে বিষয়ে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মামুদুর রহমান বলেন, অভিযোগ তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হবে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অফিস সহকারী অমিত কুমার সরকারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।