ঘুস নেওয়ার সময় গ্রেফতার বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সাবেক জুনিয়র লাইসেন্স ইনস্পেকটর অ্যান্ড কনসালটেন্ট এইচএম রাশেদ সরকারকে দুদকের মামলায় পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন এ রায় দেন। এ দণ্ডের পাশাপাশি তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অনাদায়ে তাকে আরও ৬ মাস কারাভোগ করতে হবে। দুদকের প্রসিকিউটর মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
রায় ঘোষণার আগে জামিনে থাকা রাশেদ সরকার আদালতে হাজির হন। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার বিবরণে জানা যায়, রাকিব হাসান বেবিচকের সিপিএল লাইসেন্স প্রদানের নিয়ম অনুযায়ী প্রথম ধাপ ‘এয়ার ল’ পরীক্ষায় ২০১৮ সালে উত্তীর্ণ হন। সিপিএল লাইসেন্স পরীক্ষার পরবর্তী ধাপ ‘কম্পোজিট’ পরীক্ষার ফি বাবদ ২০১৯ সালের ২ সেপ্টেম্বর তিনি চার হাজার টাকা জমা দিয়ে আবেদন করেন। রাশেদ সরকার বেবিচক, কুর্মিটোলা ঢাকার জুনিয়র লাইসেন্স ইনস্পেকটর অ্যান্ড কনসালটেন্ট হিসাবে অনলাইন সিস্টেমের মাধ্যমে ২৭ নভেম্বর ও ৪ ডিসেম্বর ওই আবেদন বাতিল করেন। রাকিব হাসানকে ‘কম্পোজিট’ পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার জন্য মোবাইল ফোনে রাকিবের কাছে এক লাখ টাকা ঘুস দাবি করেন। অনৈতিক প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে দাবি করা এক লাখ টাকা রাকিব ৬ ডিসেম্বর উত্তরার ১৩ নম্বর সেক্টরে গিয়ে দিয়ে আসেন। দুদকের টিমের সদস্যরা রাশেদকে চ্যালেঞ্জ করলে রাকিব হাসানের কাছ থেকে ঘুস নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। পরে তাকে সেখান থেকেই গ্রেফতার করে দুদক।
এ ঘটনায় দুদকের সহকারী পরিচালক তাহাসিন মুনাবীল হক ২০১৯ সালের ৬ ডিসেম্বর দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এই মামলা করেন। মামলার তদন্ত শেষে দুদকের উপ-পরিচালক জাহিদ কালাম ২০২২ সালের ৬ জুন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। ২০২৩ সালের ৬ মার্চ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। বিচার চলাকালে আদালত ২৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে। আসামি নিজের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দেন। আসামির আত্মপক্ষ শুনানি, মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত এ রায় দেন।








