উজানের পাহাড়ি ঢল ও ভারী বর্ষণে লালমনিরহাটে তিস্তা নদীর পানি রাতে বিপৎসীমা অতিক্রম করলেও সকালে তা কিছুটা কমেছে। তবে, স্বস্তি ছাপিয়ে নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের কৃষকদের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ। আবারো স্বল্পমেয়াদী বন্যার আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় চরম আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট (স্লুইস গেট) খুলে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের বরাতে জানা গেছে, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় তিস্তা নদীর পানি আরো বৃদ্ধি পেতে পারে। এর ফলে লালমনিরহাট, রংপুর ও কুড়িগ্রাম জেলার নদী সংলগ্ন নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলগুলোতে স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল ৬টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হতে দেখা গেছে। এর আগে, বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাত ৯টায় এই পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে তিস্তার পানি তীব্র গতিতে বৃদ্ধি পায়। বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় ডালিয়া পয়েন্টে পানিপ্রবাহ বিপৎসীমার ২১ সেন্টিমিটার নিচে থাকলেও বিকেল গড়াতেই তা বাড়তে থাকে। সন্ধ্যা ৬টায় বিপৎসীমার মাত্র ১ সেন্টিমিটার নিচে থাকার পর রাত ৯টায় তা বিপৎসীমা অতিক্রম করে।

 নদীর পানি এভাবে ওঠানামা করায় ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কৃষকেরা। 

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা শুনিল কুমার রায় বলেন, ‍“উজানে এবং দেশের অভ্যন্তরে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আমরা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাটই খুলে রেখেছি। নদী তীরবর্তী ও চরাঞ্চলের মানুষকে সতর্ক দৃষ্টি রাখার জন্য বলা হয়েছে এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় পানি উন্নয়ন বোর্ড সার্বক্ষণিক নজরদারি বজায় রাখছে।”