ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের পর ভয়াবহ দরপতনের পর বেক্সিমকোর শেয়ারের ক্রেতা ফিরেছে। বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশ কোম্পানিটির শেয়ার কিনতে হুমড়ি খেয়ে পড়ায় মাত্র আধাঘণ্টায় কোম্পানিটির প্রায় ১০০ কোটি টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে।
আগের ১৩ কার্যদিবসের মতো রোববার (২৮ জুন) শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু হতেই দিনের সর্বনিম্ন দামে বেক্সিমকোর বিপুল শেয়ারের বিক্রির আদেশ আসে। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই কোম্পানিটির শেয়ারের ক্রেতা ফেরে। ফলে সর্বনিম্ন দামে লেনদেন শুরু হলেও, দেখতে দেখতে কোম্পানিটির শেয়ার দিনের সর্বোচ্চ দামে পৌঁছে যায়।
ক্রেতারা হুমড়ি খেয়ে পড়ায় মাত্র আধাঘণ্টায় কোম্পানিটির ৯৬ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন বা হাতবদল হয়। এ প্রতিবেদন লেখার সময় ১০টা ৫২ মিনিট পর্যন্ত বেক্সিমকোর ৯৭ কোটি ৬৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।
আর কোম্পানিটির ২৬ লাখ ৫৬ হাজার শেয়ার দিনের সর্বোচ্চ দামে কেনার আদেশ দিয়ে রেখেছেন বিনিয়োগকারীরা। বিপরীতে ক্রয় আদেশর ঘর শূন্য পড়ে রয়েছে।
এদিকে, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মোট লেনদেন হয়েছে ৩৫৭ কোটি ২৯ লাখ টাকার শেয়ার। আর প্রধান মূল্য সূচক বেড়েছে ৩৪ পয়েন্ট। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই-৩০ বেড়েছে ১২ পয়েন্ট এবং ডিএসই শরিয়াহ সূচক বেড়েছে ৭ পয়েন্ট।
এদিকে, দেশের শেয়ারবাজারে প্রথম ফ্লোর প্রাইস আরোপ করা হয় ২০২০ সালে। করোনা মহামারির প্রকোপ দেখা দিলে শেয়ারবাজারে লাগাতার পতন হতে থাকে। সেই পতন ঠেকাতে না পেরে প্রথমবার ২০২০ সালে মার্চে ফ্লোর প্রাইস আরোপ করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
তবে ২০২১ সালের জুলাইয়ে তা তুলে নেওয়া হয়। এরপর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে শেয়ারবাজারে দরপতন দেখা দিলে ২০২২ সালের জুলাইয়ে আবারও ফ্লোর প্রাইস আরোপ করেবি এসইসি। এ পর্যায়ে শেয়ার লেনদেন ব্যাপক কমে গেলে সমালোচনায় পড়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে পর্যায়ক্রমে ফ্লোর প্রাইস তুলে নেয় বিএসইসি।
তবে অদৃশ্য কারণে বেক্সিমকো ও ইসলামী ব্যাংকের ফ্লোর প্রাইস অব্যাহত রাখা হয়। স্টেকহোল্ডারদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অবশেষে গত ৮ জুন কোম্পানি দুটির ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বিএসইসির নতুন নেতৃত্ব। যে সিদ্ধান্ত কার্যকর হয় গত ৯ জুন।
ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়ার পর দুটি কোম্পানিই বড় ধরনের দরপতনের মধ্যে পড়ে। অবশ্য দুই কার্যদিবস পতনের পর ১১ জুন থেকেই ঘুরে দাঁড়ায় ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার। কিন্তু বেক্সিমকোর শেয়ারের দাম কমার প্রবণতা অব্যাহত থাকে। টানা ১৩ কার্যদিবস ক্রেতা সংকটে ভোগার পর অবশেষে কোম্পানিটির শেয়ারের ক্রেতা ফিরলো। ১১০ টাকা ১০ পয়সা থেকে ২৫ টাকা ৬০ পয়সায় নামার পর এখন ৩১ টাকা ২০ পয়সায় উঠে আসলো।
ফ্লোর প্রাইস উঠিয়ে দেওয়ার পর ভয়াবহ দরপতন হলেও কোম্পানিটির শেয়ার দামের উত্থানও ছিল অস্বাভাবিক। ২০২০ সালের ১৭ মার্চ কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের দাম ছিল ১০ টাকা ৭৬ পয়সা। এরপর দফায় দাফায় দাম বেড়ে ২০২১ সালে কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের দাম রেকর্ড ১৭৮ টাকা ৯৫ পয়সায় উঠে। এরপর দরপতন হতে থাকলে ১১০ টাকা ১০ পয়সা ফ্লোর প্রাইস নির্ধারণ করে কোম্পানিটির শেয়ার দাম এক জায়গায় আটকে রাখা হয়।
বেক্সিমকোর মোট শেয়ার সংখ্যা ৯৪ কোটি ৩২ লাখ ৩৬ হাজার ২৬২টি। এর মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে আছে ৩৩ দশমিক ১১ শতাংশ শেয়ার। বাকি শেয়ারের মতো ৩৩ দশমিক ৩৬ শতাংশ আছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৩২ দশমিক ৫৯ শতাংশ এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে দশমিক ৯৪ শতাংশ আছে।
এমএএস/এসএনআর








