প্লটের নামে প্রতারণা

প্লট বরাদ্দের নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে প্রতিশ্রুত প্লট বুঝিয়ে না দেওয়া এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে বেস্টওয়ে ল্যান্ড প্রোপার্টিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি), চেয়ারম্যান ও এক পরিচালকসহ তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ১৭টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রায় ৭ কোটি টাকার মানিলন্ডারিং মামলা করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

আজ বুধবার সিআইডির মুখপাত্র ও অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার আবু তালেব এ তথ্য জানান।

মামলার আসামিরা হলেন—বেস্টওয়ে ল্যান্ড প্রোপার্টিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান, চেয়ারম্যান তানিয়া সুলতানা তানভী, এবং পরিচালক মো. মোমেন (৬৫)। তাদের পাশাপাশি বেস্টওয়ে গ্রুপের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ১৭টি প্রতিষ্ঠানকেও মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে।

সিআইডি জানায়, ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ এবং সেই অর্থ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তরের তথ্য পাওয়ায় বনানী থানায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধনী-২০১৫) অনুযায়ী মঙ্গলবার (২১ জুলাই) মামলাটি করা হয়।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০১০ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে রূপগঞ্জের ভোলাব, তরাইল, বিরাব ও মোচারতালুকসহ বিভিন্ন মৌজায় প্লট বিক্রির নামে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কিস্তিতে অর্থ সংগ্রহ করে বেস্টওয়ে ল্যান্ড প্রোপার্টিজ। আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্লট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও অধিকাংশ গ্রাহককে পরে প্লট বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি এবং জমা দেওয়া অর্থও ফেরত দেওয়া হয়নি।

সিআইডির ভাষ্য, এ পর্যন্ত অন্তত ৩৭ জন গ্রাহকের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে মোট ৭ কোটি ২ লাখ ৬৭ হাজার ৬০৪ টাকা নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

ভুক্তভোগীদের প্লটের পরিবর্তে কেবল জিম্মা বা গ্যারান্টি হিসেবে সাব-কবলা দলিল দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, গ্রাহকদের কাছ থেকে আদায় করা অর্থের বড় একটি অংশ অভিযুক্তদের নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে পরিচালিত ৮২টি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে স্থানান্তর ও রূপান্তর করা হয়েছে। এসব হিসাবে ২০১০ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে মোট ৩৫৯ কোটি ২ লাখ ৭১ হাজার ৯৪৫ টাকা ৭২ পয়সা জমা এবং ৩৫৮ কোটি ৫৪ লাখ ৩৭ হাজার ১০২ টাকা ৭৯ পয়সা উত্তোলনের তথ্য পেয়েছে সিআইডি।

এ ছাড়া তদন্তে ২০১০ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত মোট ২ হাজার ৭১৩টি সাব-কবলা রেজিস্ট্রি দলিলের তথ্য পাওয়া গেছে, যেগুলো গ্রাহকদের কাছে জিম্মা বা সিকিউরিটি হিসেবে দেওয়া হয়েছিল।

সিআইডি জানিয়েছে, মামলার তদন্ত চলছে। তদন্তে প্রতারণার মাধ্যমে সংগ্রহ করা অর্থের প্রকৃত পরিমাণ, অর্থের উৎস ও গন্তব্য, বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তরের ধরন এবং এ ঘটনায় আরও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রতারণার শিকার অন্যান্য গ্রাহককে শনাক্ত করে তাদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থের পরিমাণও নিরূপণ করা হবে।