শুধু ভবন নির্মাণ ও শিক্ষক নিয়োগ দিলেই কোনো প্রতিষ্ঠান প্রকৃত বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হয় না বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুন। তার মতে, দুর্বল শিক্ষক নিয়োগ ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে দেশের অনেক বিশ্ববিদ্যালয় নামেই বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে আছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।

পোস্টে অধ্যাপক মামুন বলেন, “অযোগ্য ব্যক্তিদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার ফলে সমাজে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের আচরণ, গবেষণা ও প্রজ্ঞা অনেক ক্ষেত্রেই শিক্ষকসুলভ নয়। এর ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যেও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হচ্ছে।”

তিনি অভিযোগ করেন, বাংলাদেশে শিক্ষক নিয়োগ পদ্ধতি আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মতো স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নয়। বর্তমান ব্যবস্থায় উপাচার্য বা উপ-উপাচার্যের নেতৃত্বাধীন নিয়োগ বোর্ডে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের সুযোগ থাকে। ফলে ক্ষমতাসীন দলের পছন্দের ব্যক্তিদের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া সহজ হয়।

অধ্যাপক মামুনের ভাষ্য, “একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রম, শিক্ষক নিয়োগ এবং শিক্ষার্থী ভর্তি—সবকিছুই আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বা ‘ইউনিভার্সাল’ হওয়া উচিত। কিন্তু বাংলাদেশে কেবল পাঠ্যক্রম কিছুটা আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করলেও শিক্ষক নিয়োগ ও ভর্তি প্রক্রিয়া সেই মানে পৌঁছাতে পারেনি। এ কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান প্রকৃত বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা অর্জন করতে ব্যর্থ হচ্ছে।”

তিনি বলেন, “দেশে বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ার মতো অবকাঠামো ইতোমধ্যে তৈরি হয়েছে। এখন প্রয়োজন আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করা। এতে শিক্ষার মান দ্রুত উন্নত হবে এবং উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশমুখী শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমবে।”

ফেসবুক পোস্টে তিনি আরো উল্লেখ করেন, সরকারি হিসাব অনুযায়ী ২০২৫–২৬ অর্থবছরে বিদেশে পড়াশোনার জন্য বাংলাদেশ থেকে ৮২ হাজার কোটি টাকার বেশি অর্থ বিদেশে গেছে। প্রকৃত অঙ্ক আরো বেশি হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শিক্ষার মান উন্নত হলে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি ‘ব্রেইন ড্রেইন’ কমবে, বেকারত্ব হ্রাস পাবে, মাদকের বিস্তার কমবে এবং সামগ্রিক সামাজিক পরিবেশের উন্নতি হবে বলেও মত দেন এই অধ্যাপক।

পোস্টের শেষাংশে তিনি শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের উন্নয়নের জন্য এই দুই খাতের ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া উচিত।