টানা এক মাসের রোমাঞ্চ, বিস্ময় আর অঘটনের পর এখন ৪৮ দলের লড়াই পেরিয়ে রইল বাকি আট। কাল রাতে হয়ে যাওয়া ফ্রান্স-মরক্কো প্রথম কোয়ার্টার শেষে দলের সংখ্যা এরই মধ্যে সাতে নেমে এসেছে। এর আগে বিদায় নিয়েছে ব্রাজিল, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকোর মতো দলগুলো। টিকে আছে, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের মতো দল, যারা প্রমাণ করেছে আধুনিক ফুটবলে নামের চেয়ে প্রস্তুতি, সংগঠন এবং বিশ্বাস অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

তবু শেষ আটের আলোচনায় সবচেয়ে উজ্জ্বল নাম দুটি-লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পে। বয়স ৩৯ হলেও মেসি যেন সময়কে অস্বীকার করছেন। আর্জেন্টিনার আক্রমণের প্রতিটি সুর তার পা থেকেই বেরিয়ে আসছে। অন্যদিকে এমবাপ্পে আবারও প্রমাণ করছেন কেন তাকে এই সময়ের সবচেয়ে বিধ্বংসী ফরোয়ার্ড বলা হয়। কিন্তু বিশ্বকাপের সৌন্দর্যই হলো, এখানে শুধু তারকারা নন, দলও কথা বলে। বিশ্বাস থাকলে অসম্ভবও সম্ভব।

স্পেন ও বেলজিয়ামের লড়াইও কম আকর্ষণীয় নয়। টুর্নামেন্টে এখনো গোল হজম করেনি স্পেন। বলের দখল, ছন্দ নিয়ন্ত্রণ এবং রক্ষণ-সব মিলিয়ে তারা সবচেয়ে পরিণত দলগুলোর একটি। বিপরীতে বেলজিয়াম ধীরে ধীরে ছন্দে ফিরেছে। শেষ ষোলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে বড় জয় তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। তবে স্পেনের সুসংগঠিত ফুটবল ভাঙতে তাদের সেরাটাই খেলতে হবে। সবচেয়ে রোমাঞ্চকর লড়াই হতে পারে নরওয়ে ও ইংল্যান্ডের ম্যাচ। একদিকে আর্লিং হলান্ডের দুর্দান্ত গোল-ফর্ম, অন্যদিকে হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহামের নেতৃত্বে ইংল্যান্ডের আক্রমণ। দুই দলই গোল করতে ভালোবাসে, আবার রক্ষণেও মাঝেমধ্যে দুর্বলতা দেখিয়েছে। ফলে এই ম্যাচে গোলের বন্যা হলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

আর আর্জেন্টিনা-সুইজারল্যান্ড ম্যাচে চোখ থাকবে এক ব্যক্তির দিকে। সুইসদের শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ কি মেসিকে থামাতে পারবে? নাকি আবারও জাদুকরের পা থেকেই জন্ম নেবে পার্থক্য গড়ে দেওয়া মুহূর্ত? বিশ্বকাপের এই পর্যায়ে এসে পরিসংখ্যান, র‌্যাংকিং কিংবা অতীতের সাফল্যের গুরুত্ব অনেকটাই কমে যায়। একটি নিখুঁত পাস, একটি ভুল সিদ্ধান্ত কিংবা একটি মুহূর্তের অনুপ্রেরণাই বদলে দিতে পারে পুরো টুর্নামেন্টের গল্প। তাই শেষ আটের লড়াই শুধু ফুটবল নয়, এটি সাহস, ধৈর্য, কৌশল এবং স্বপ্নকে শেষ পর্যন্ত বাঁচিয়ে রাখার এক অনন্য পরীক্ষা।