আবাদি জমির আইল ধরে হেঁটে যাচ্ছে একটি কন্যাশিশু। তার পরনে ফ্রক, কোলে একটি প্রাণী, পেছন পেছন ছুটে চলেছে একটি শজারু। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে এমন দৃশ্য দেখা যায়; যা দেখে মুগ্ধতা প্রকাশ করছেন নেটিজেনরা।
সবকিছু ঠিকই ছিল। কিন্তু বিড়ম্বনা তৈরি হয়েছে দুটো বিষয় নিয়ে। এক. শিশুটির কোলের প্রাণীটিকে কেউ কেউ বিরল প্রজাতির গন্ধগোকুল বলছেন, আবার কেউ বলছেন বিড়াল। দুই. ভিডিওটি বাংলাদেশের বলেও অনেকে দাবি করেছেন। কেবল তাই নয়, ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফও একই দাবি করেছে। ফলে বিষয়টি নিয়ে তৈরি হয়েছে—রহস্য ও বিতর্ক!
ভিডিওটি কী বাংলাদেশের? ভাইরাল ভিডিওটি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ‘প্রভাত সিলভা’ নামে একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়েছে। প্রভাত সিলভার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ঘেঁটে জানা যায়, সে শ্রীলঙ্কার নাগরিক। শ্রীলঙ্কার উত্তর-মধ্য প্রদেশে অবস্থিত প্রাচীন ও ঐতিহাসিক শহর পোলোনারওয়াতে বসবাস করেন তিনি। ফলে, এটা পরিষ্কার যে, ভিডিওটি বাংলাদেশের নয়।
বিড়াল না কি গন্ধগোকুল? শিশুকন্যাটির কোলে যে প্রাণীটি দেখা যাচ্ছে, সেটিকে নেটিজেনদের অনেকে বিরল প্রজাতির গন্ধগোকুল বলে শেয়ার করছেন। তবে ভিডিওটিতে খুব পরিষ্কারভাবে তা বোঝা যাচ্ছে না। এটি বিড়ালও হতে পারে। তাছাড়া প্রভাত সিলভার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে বেশ কিছু ভিডিও পাওয়া গেছে, সেসব ভিডিওতে গন্ধগোকুল দেখা যায়নি। বরং তার বেশ কটি বিড়াল রয়েছে, শজারুও পাওয়া গেছে। আর বিড়ালগুলোর একটির গায়ের রং শিশুটির কোলে থাকা প্রাণীটির মতো। ফলে, ভাইরাল ভিডিওর প্রাণীটি বিড়াল বলে ধরে নেওয়া যায়।
ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠান রিউমর স্ক্যানারের তথ্যমতে, শিশুর কোলে গন্ধগোকুল আর পিছনে শজারু এমন দৃশ্যের ভিডিওটি বাংলাদেশের নয়। প্রকৃতপক্ষে, শ্রীলঙ্কার এক ব্যক্তির ধারণ করা ভিডিওকে বাংলাদেশের দাবি করে প্রচার করা হচ্ছে। গত ১২ জুন, মূল ভিডিওটি প্রথম প্রভাত সিলভা নামে শ্রীলঙ্কান এক ব্যক্তির ফেসবুক প্রোফাইলে পাওয়া যায়। শ্রীলঙ্কার সিংহলিজ ভাষার ক্যাপশনে ভিডিওটি সম্পর্কে লেখা হয়, “যে ছোট ভাই তার বোনের সাথে কুবুরুতে যায়।”
তবে শিশুকন্যার কোলের প্রাণীটি গন্ধগোকুল না কি বিড়াল সে বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো তথ্য জানায়নি ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠান রিউমর স্ক্যানার।








