ভালুকায় দুটি রাস্তার সংস্কার না করেই বরাদ্দের টাকা নয়ছয়ের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তাসহ দুই ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে টিআর ও কাবিটা প্রকল্পে এই রাস্তা দুটি সংস্কারের সম্পূর্ণ টাকা উঠিয়ে নিয়েছেন প্রকল্পের সভাপতিসহ অন্যরা।
উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ডাকাতিয়া ইউনিয়নের হিজলীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের রাস্তা মাটি দ্বারা সংস্কারে এক লাখ ২০ হাজার টাকা এবং একই ইউনিয়নের রাজ্জাক মেম্বারের
বাড়ি থেকে মুক্তিযোদ্ধা নহর আলীর বাড়ি পর্যন্ত রাস্তায় আট মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। কাগজে-কলমে রাস্তা দুটির সংস্কার দেখালেও বাস্তবে এক রাস্তায় কোনো মাটি ফেলা হয়নি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হিজলীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশ দিয়ে যাওয়া রাস্তায় মাটি দ্বারা সংস্কারের প্রকল্পটি সমাপ্ত হয়েছে। বরাদ্দের টাকা উত্তোলন করেছেন প্রকল্পের সভাপতি। কাগজে-কলমে এমন তথ্য থাকলেও বাস্তবে রাস্তায় কোনো মাটি ফেলা হয়নি। অপর দিকে হোসেনপুর রাজ্জাক মেম্বারের বাড়ি থেকে মুক্তিযোদ্ধা নহর আলীর বাড়ি পর্যন্ত রাস্তাটি এইচবিবিকরণ করার কথা থাকলেও সরেজমিন দেখা যায়, রাস্তাটির অর্ধেকের বেশি কাজ বাকি রয়েছে। তবে প্রকল্পের সভাপতি জানালেন-‘টাকা শেষ। আর কাজ করা সম্ভব নয়।’ দুটি প্রকল্পেরই সভাপতি ইউপি সদস্য লিটন ও সাধারণ সম্পাদক ইউপি সদস্য পারুল আক্তার। দুজনের মতেই তাদের কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন আরেক ইউপি সদস্য আব্দুর রাজ্জাক। পারুল আক্তার জানিয়েছেন, এলাকার উন্নয়নে গৃহীত ওই প্রকল্প দুটির কাগজে তিনি স্বাক্ষর করেছেন। পরবর্তীতে পিআইওসহ রাজ্জাক মেম্বারের যোগসাজশে রাস্তার কাজে অনিয়ম করায় বিলের কাগজে স্বাক্ষর করেননি তিনি। রাস্তা দুটি সরেজমিন দেখতে গেলে অসুস্থতার কারণে ইউপি সদস্য লিটন সেখানে আসেননি। পরে ইউপি সদস্য আব্দুর রাজ্জাক তার বাড়ির পাশে এইচবিবিকরণ রাস্তাটি দেখাতে নিয়ে যান। সেখানে অর্ধেকের বেশি রাস্তার কাজ না হওয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। পরবর্তীতে আব্দুর রাজ্জাক নিজেই ফোনে কথা বলিয়ে দেন প্রকল্পের সভাপতি ইউপি সদস্য লিটন মিয়ার সঙ্গে। তবে রাস্তার অনিয়মের বিষয়ে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মহিদুল ইসলামের ভাষ্য, এইচবিবিকরণ রাস্তাটি সম্পন্ন না হওয়ার বিষয়টি তিনি অবগত নন, আগামী সপ্তাহে সরেজমিন পরিদর্শন করে এর সমাধান করবেন। প্রকল্পের কাজ সঠিকভাবে না হলে এবং পারুল আক্তার যদি স্বাক্ষর দিয়ে সমন্বয় না করেন, তাহলে অর্থ ফেরতের জন্য বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, মাটি দ্বারা সংস্কার রাস্তার প্রকল্পের অর্থ দিয়ে তিনি একটি স্কুলের মাঠ সংস্কার করিয়েছেন।
‘রাস্তার জন্য বরাদ্দ হওয়া অর্থ তিনি মাঠ সংস্কারে ব্যবহার করতে পারেন কি-না’-এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এলাকাবাসীর অনুরোধে এই কাজটি তিনি করেছেন। শতভাগ নিয়ম মেনে কোনো প্রকল্পই বাস্তবায়ন সম্ভব নয় বলে জানান তিনি। ইউএনও ফিরোজ হোসেন বলেন, বিষয়টি কেউ আমাকে অবগত করেননি। খোঁজ নিয়ে বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানান তিনি।








