ভাঙ্গায় আধিপত্য বিস্তার ও বাসস্ট্যান্ড নিয়ন্ত্রণ কেন্দ করে দুই ইউনিয়নের ১৫ গ্রামের বাসিন্দারা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়েছে। এতে ১৫ পুলিশ সদস্যসহ অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কে ৫ ঘণ্টাব্যাপী যান চলাচল বন্ধ থাকে। উভয়প্রান্তে কয়েক হাজার গাড়ি আটকা পড়ে জন-দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়। রোববার সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত পুকুরিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় হামিরদী ইউনিয়নের মহেশ্বরদী মৌজার ১১টি গ্রাম ও মানিকদাহ ইউনিয়নের ৪ গ্রামবাসীর মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়। এ সময় পুকুরিয়া বাসস্ট্যান্ডের ১০ থেকে ১৫টি দোকান লুটপাট করা হয়।
পুলিশ জানায়, সংঘর্ষে নেতৃত্ব দেন হামেরদী ইউনিয়নের মহেশ্বরদী মৌজার ১১ গ্রামের ছিরু মাতুব্বর, কালাম মাতুব্বর, জাহিদ মাতুব্বর এবং মানিকদাহ ইউনিয়নের পুকুরিয়া, ব্রাহ্মণকান্দা, মৃর্ধাকান্দা ও নাজিরপুর গ্রামের নেতৃত্ব দেন সুলতান মাতুব্বর ও মজিবর মাতুব্বর। এ সময় উভয়পক্ষ মাথায় হেলমেট ও গামছা বেঁধে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ঢাল, সরকি, টেঁটা, তলোয়ার, চাইনিজ কুড়াল, ইটপাটকেল ও লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
ভাঙ্গা থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, পুকুরিয়া বাসস্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তার কেন্দ করে মানিকদাহ ইউনিয়নের সুলতান মাতুব্বর, মজিবুর মাতুব্বর ও হামিরদী ইউনিয়নের ছিরু মোল্লা, কালাম মাতুব্বর ও খোকন চেয়ারম্যানের সমর্থকদের মধ্যে পুকুরিয়া বাসস্ট্যান্ডে সংঘর্ষ হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষ চলাকালে এএসপি সার্কেল ও ওসিসহ ১৫ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এখনো এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, এলাকায় ওই দুটি গ্রুপ শক্ত অবস্থানে রয়েছে। শুক্রবার মহেশ্বরদী গ্রামের কালাম কাজীর বাড়িতে মাদক বিরোধী মিটিং হয়। দ্বিতীয় মিটিং শনিবার হামিরদী ইউনিয়ন পরিষদে। এ মাদকবিরোধী মিটিং নিয়ে দুই দল গ্রামবাসীর মাঝে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। এর জেরে ১৫ গ্রামবাসী দু’গ্রুপে ভাগ হয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।








