পুশ ইন ও পুশ ব্যাক ইস্যুতে খাদের কিনারায় ভারত-বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক। ভারতে অবৈধভাবে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের নিজের দেশে ফেরাতে পশ্চিমবঙ্গে তৈরি হয়েছে ১২টি হোল্ডিং সেন্টার।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সম্প্রতি বিধানসভায় দাবি করেছেন, ইতিমধ্যেই ১০ হাজার বাংলাদেশি নাগরিককে বাংলাদেশে পুশ ব্যাক করা হয়েছে। আরো ১ হাজার ৮০০ জনকে যেকোনো সময় ফেরত পাঠাবে তার সরকার। অন্যদিকে, বাংলাদেশের তরফে দাবি করা হয়েছে পুশ ইন রুখে দেওয়া হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সীমান্তের দুই পারেই জোরদার করা হয়েছে নজরদারি। আর তার মধ্যেই ভারতে অনুপ্রবেশের সময় আটক করা হয়েছে পাঁচ বাংলাদেশি নাগরিককে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (২৭ জুন) বাংলাদেশ সীমান্তে বিজিবির কঠোর নজরদারি এড়িয়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রবেশ করেন পাঁচ বাংলাদেশি নাগরিক। বাংলাদেশের রাজশাহী সীমান্তের এপারে মুর্শিদাবাদ জেলার ভগবানগোলার চর সীমান্ত নামক এলাকার কাঁটাতারের বেড়া টপকে তারা ভারতে অনুপ্রবেশ করেছিল। 

বিএসএফ সূত্রে দাবি করা হয়েছে, ভারতে অনুপ্রবেশের পরপরই সীমান্ত টহলরত বিএসএফ সদস্যদের মুখোমুখি হয়ে যায় তারা। অনুপ্রবেশকারী পাঁচজনকেই আটক করে বিএসএফ। 

শনিবারই আটককৃত ওই পাঁচ বাংলাদেশি নাগরিককে তুলে দেওয়া হয় স্থানীয় ভগবানগোলা থানার পুলিশের হাতে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পুলিশি আটককৃতদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে বিচারের মুখোমুখি করেনি। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আটককৃতদের রবিবার (২৮ জুন) মুর্শিদাবাদ লালগোলা হোল্ডিং সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। এই হোল্ডিং সেন্টার থেকেই তাদের ফের বাংলাদেশে পুশ ব্যাক করা হবে। 

পুলিশ সূত্রে আরো জানা গেছে, আটককৃত পাঁচজনের প্রত্যেকেই পুরুষ। ভারতে কাজের সন্ধানে দালাল মারফত তারা অনুপ্রবেশ করেছিল। তবে ভারতে প্রবেশের পরেই দালাল তাদের ছেড়ে পালিয়ে যায়। আটককৃতদের কাছ থেকে বাংলাদেশি নাগরিকত্বের পরিচয়পত্র ছাড়া ভারতে প্রবেশের কোনো বৈধ নথি পাওয়া যায়নি। সীমান্ত উত্তেজনার মধ্যেই ফের অনুপ্রবেশের ঘটনার জেরে সীমান্তের নজরদারি আরো বাড়ানো হয়েছে।