পাঁচ দফা আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ত্রিপক্ষীয় কাঠামোগত সমঝোতায় পৌঁছেছে লেবানন-ইসরাইল। শুক্রবার (২৬ জুন) ওয়াশিংটনে দুই পক্ষের মধ্যকার সমঝোতা চুক্তি হয়। সদ্য ঘোষিত চুক্তিকে (ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট) ‘মারাত্মক ভুল’ জানিয়েছে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। একই সঙ্গে নতুন চুক্তিকে ‘বাতিল ও অকার্যকর’ বলে ঘোষণা দিয়েছে হিজবুল্লাহ।

তবে, কাঠামোগত চুক্তি বাস্তবায়নে লেবানন সরকার দায়িত্ব পালন করবে বলে অঙ্গীকার করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি লঙ্ঘন রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে এবং চুক্তির আওতায় গৃহীত সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবে। শনিবার রাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এ অঙ্গীকার করেন।

হিজবুল্লাহ প্রধান নাইম কাসেম এবং লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন।

এদিকে, দক্ষিণ লেবাননের তথাকথিত ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’ (সিকিউরিটি জোন) অবস্থান বজায় রাখার জন্য দেশটির সামরিক বাহিনীকে প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েল। শনিবার (২৭ জুন) এক বিবৃতিতে কাটজ জানান, তিনি এবং প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু যৌথভাবে ইসরাইলি সেনাবাহিনীকে (আইডিএফ) দক্ষিণ লেবাননের ওই ‘নিরাপত্তা অঞ্চলে’ দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতির প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

এমন পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের সঙ্গে চুক্তিকে লেবাননের সার্বভৌমত্বের আত্মসমর্পণ বলে আখ্যায়িত করেছেন হিজবুল্লাহর মহাসচিব নাইম কাসেম। লেবানন সরকারকে এই অবস্থান থেকে সরে এসে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকের বিধান বাস্তবায়নের আহ্বান জানান হিজবুল্লাহ মহাসচিব।

শনিবার (২৭ জুন) এক বিবৃতিতে কাসেম বলেন, এই চুক্তির মাধ্যমে লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ইসরাইলি সেনা সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের নিশ্চয়তা ছাড়াই ইসরায়েলকে রাজনৈতিক ছাড় দেওয়া হয়েছে। এর ফলে দক্ষিণ লেবাননের কিছু অংশে ইসরায়েলের দখলদারিত্ব কার্যত বৈধতা পাবে এবং তা আরও কয়েক বছর দীর্ঘায়িত হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, চুক্তিতে লেবাননজুড়ে হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণের সঙ্গে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারকে যুক্ত করা হয়েছে, যা ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক’ এবং ‘সব লাল রেখা অতিক্রম করেছে’।

কাসেমের দাবি, এই কাঠামোগত চুক্তি পূর্ববর্তী যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকের (MoU) তুলনায় দুর্বল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সমঝোতায় লেবাননসহ সব ফ্রন্টে অবিলম্বে ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, লেবাননের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের নিশ্চয়তা এবং ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তির লক্ষ্যে আলোচনার কথা ছিল।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২ মার্চ ২০২৬ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ২৩০ জন নিহত এবং ১২ হাজার ১৭৯ জন আহত হয়েছেন।

সূত্র: রয়টার্স/ দ্য জেরুজালেম পোস্ট/ সিনহুয়া

কেএম