‘ধর্ষণের স্থানেই অপরাধীদের ফাঁসি দিল ভারতের আদালত’—এমন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।

আজ ১ আগস্ট ‘ডেইলি রিপোর্ট’ নামের একটি ফেসবুক পেজসহ একাধিক আইডি ও পেজ (, , , ) থেকে আলোচিত ভিডিওটি শেয়ার করা হয়। ভিডিওটি পোস্টের স্বল্প সময়ের মধ্যেই হাজার হাজার বার দেখা হয়েছে এবং বহু ব্যবহারকারী এটি শেয়ার করেছেন। আলোচিত দাবিতে ছড়িয়ে পড়া পোস্টগুলোর কমেন্ট পর্যালোচনা করে দেখা যায়, অধিকাংশ ব্যবহারকারী দাবিটিকে সত্য বলে বিশ্বাস করেছেন।

অনুসন্ধানের শুরুতেই ভাইরাল ৫৩ সেকেন্ডের ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করা হয়। ভিডিওতে কয়েকজন ব্যক্তিকে হাতকড়া এবং মুখ কালো কাপড়ে ঢাকা অবস্থায় পুলিশের সঙ্গে দেখা যায়।

পরে ভিডিওর কয়েকটি কি-ফ্রেম নিয়ে অনুসন্ধানে ভারতের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’‘দ্য হিন্দু’ -সহ একাধিক মূলধারার সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন পাওয়া যায়।

গত ১৫ জুলাই প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ঘটনাটি ভারতের মহারাষ্ট্রের নাসিক জেলার ভাবালিবাঁধ এলাকার। সেখানে ঘুরতে যাওয়া একটি পরিবারের ওপর একদল যুবক হামলা চালায়। পরিবারের এক নারী সদস্যকে উত্ত্যক্ত করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ওই পরিবারের সদস্যদের মারধর করে এবং তাঁদের গাড়িও ভাঙচুর করে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ঘটনার পর পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে ৯ জনকে গ্রেপ্তার করে। পরে মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে অভিযুক্তদের ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়। সে সময়ে জড়িতরা তাদের কৃতকর্মের বর্ণনা দেন। সেই অনুযায়ী ক্রাইম সিন লিপিবদ্ধ করে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থলের বিবরণ, অভিযুক্তদের অবস্থান এবং ঘটনার ধারাবাহিকতা যাচাই করতেই এই আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে। তবে মূল ধারায় প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে কোথাও ফাঁসি বা মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা বলে উল্লেখ নেই।

এ ছাড়া ভারতের সংবাদ সংস্থা ANI-এর ভেরিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত ভিডিও থেকেও একই তথ্য পাওয়া যায়। ৩ মিনিট ৪ সেকেন্ড দৈর্ঘ্যের ওই ভিডিওর একাধিক দৃশ্যের সঙ্গে প্রচারিত ভিডিওটির হুবহু মিল পাওয়া যায়।

ভারতে ধর্ষণের স্থানেই অপরাধীদের ফাঁসি দেওয়ার দাবিতে প্রচারিত তথ্যটি ভিত্তিহীন ও ভুয়া। মূলত, মহারাষ্ট্রে নারীকে হেনস্তা ও হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার আসামিদের নিয়ে পুলিশের ঘটনাস্থল যায়। সেই আলোচিত ঘটনার ভিডিওকে ‘ফাঁসি’ দেওয়ার দাবিতে ছড়ানো হচ্ছে।