বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর বলেছেন, ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ভারসাম্যহীনতা দূর করার জন্য আমদানি নির্ভরতা হ্রাস এবং রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য সরকার ভারতের সঙ্গে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সিইপিএ) শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জাতীয় সংসদে রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলালের তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের লিখিত জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী এ কথা জানান। মন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে সংসদে প্রশ্নের জবাব দেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম।
আজ বৃহস্পতিবার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হয়।
বাণিজ্যমন্ত্রীর হয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারত-বাংলাদেশের ১১ হাজার ৩৮৮ দশমিক ৩৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ রপ্তানি করেছে ১ হাজার ৭৬৪ দশমিক ২৩ মিলিয়ন ডলার।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্যে ভারসাম্যহীনতা দূর করার লক্ষ্যে আমদানি নির্ভরতা হ্রাসকরণে সরকার দেশীয় শিল্পের বিকাশ, আমদানি বিকল্প পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি, স্থানীয়ভাবে উৎপাদনযোগ্য পণ্যের আমদানি নিরুৎসাহিতকরণ এবং প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও মূলধনী যন্ত্রপাতির আমদানিকে উৎসাহিত করার নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে প্রস্তাবিত আমদানি নীতি আদেশ, ২০২৬-২০২৯-এ দেশীয় শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার সুষ্ঠু ব্যবহার এবং প্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি ব্যবস্থাপনাকে অধিকতর সহজ, স্বচ্ছ ও যুগোপযোগী করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
জামায়াতের সংসদ সদস্য মুহাম্মদ আবদুল খালেকের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে বর্তমানে দুটো দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি আছে। এর মধ্যে ২০২০ সালের ৬ ডিসেম্বর ভুটানের সঙ্গে এবং ২০২৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি জাপানের সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে।
সংরক্ষিত নারী আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিশ্বের ২০২ গন্তব্যে ৮১২টি পণ্য রপ্তানি হয়। এর মধ্যে ওভেন পোশাক, নিটওয়্যার, হোম টেক্সটাইল, হিমায়িত ও জীবন্ত মাছ, কৃষিজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত দ্রব্য, চামড়া-চামড়াজাত পণ্য ও পাদুকা এবং প্রকৌশল দ্রব্যাদি রপ্তানি করে ৪৪ হাজার ১৬৭ দশমিক ৮৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় হয়। যা মোট রপ্তানি আয়ের ৯১ দশমিক ৪৮ শতাংশ।
বগুড়া-৬ রেজাউল করিম বাদশার প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাতের ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহন, আন্তর্জাতিক বিমা ব্যবস্থা, সরবরাহ শৃঙ্খল এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সাময়িক অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল, এলএনজি, এলপিজি এবং সামুদ্রিক পরিবহন ব্যয়ের ওপর ঊর্ধ্বমুখী চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সরাসরি এ সংঘাতের পক্ষ না হলেও বৈশ্বিক জ্বালানি ও বাণিজ্য ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত থাকায় কিছু পরোক্ষ অর্থনৈতিক ঝুঁকির সম্মুখীন হয়েছে। তবে এ পর্যন্ত সংঘাতজনিত কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি বা ব্যবসা-বাণিজ্যে কোনো প্রত্যক্ষ ও পরিমাপযোগ্য আর্থিক ক্ষতির হিসাব পাওয়া যায়নি।
কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালামের প্রশ্নের লিখিত জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা হতে উত্তরণের ফলে তৈরি পোশাক খাতসহ রপ্তানি খাত কিছু নতুন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হবে। বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন উন্নত দেশের বাজারে শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত সুবিধা, সহজ উৎসবিধি এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক অগ্রাধিকার সুবিধায় পরিবর্তন আসতে পারে। তবে সরকার সরকার এসব সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বহুমুখী কৌশল গ্রহণ করেছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে নিবিড় আলোচনা অব্যাহত রেখে জিএসপি প্লাস সুবিধা অর্জনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ৩২টি আন্তর্জাতিক কনভেনশনের বাস্তবায়ন জোরদার করা হয়েছে। সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ বাস্তবায়নের মাধ্যমে এলডিসি উত্তরণ পরবর্তী সময়েও বাংলাদেশের তৈরি পোশাকসহ সামগ্রিক রপ্তানি খাতের প্রবৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বজায় থাকবে বলে সরকার আশাবাদী।
সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম রেজার এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে টিসিবির ৬ হাজার ৪৩৮ এজেন্ট/ডিলার আছে।








