টানা ভারী বৃষ্টিপাতে বান্দরবানে পাহাড় ধসের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর ফলে জেলার সাত উপজেলায় পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী কয়েক হাজার পরিবার চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশনা দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

বান্দরবান পৌর এলাকার পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী কালাম, রহিম ও হাসানসহ কয়েকজন বাসিন্দা জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ের নিচে বসবাস করছেন। নিম্ন আয়ের মানুষ হওয়ায় বাধ্য হয়ে কম দামে পাহাড়ের জমি কিনে সেখানে বসতি গড়েছেন। ঝুঁকি সম্পর্কে জানলেও আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে অন্য কোথাও যাওয়ার সুযোগ নেই। ফলে বর্ষা এলেই তাদের আতঙ্কে দিন কাটাতে হয়।

বান্দরবানের মৃত্তিকা ও পানি সংরক্ষণ কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মাহাবুবুল ইসলাম বলেন, অতিরিক্ত পাহাড় কাটার কারণে পাহাড়ের ওপরের মাটির স্তর সরে গিয়ে ভেতরের নরম অংশ উন্মুক্ত হয়ে পড়ে। এতে ভূমিক্ষয়ের মাধ্যমে পাহাড়ে ফাটল সৃষ্টি হয়। ভারী বর্ষণে সেই ফাটলে পানি প্রবেশ করলে পাহাড়ধসের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।

বান্দরবান পৌর প্রশাসক মঞ্জুর আলম বলেন, গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণে পাহাড় ধস ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় পৌর প্রশাসন সার্বক্ষণিক সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

বান্দরবান জেলা প্রশাসক সানিউল ফেরদৌস বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জেলার সাত উপজেলার পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে থাকা বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।