ভোলা সদরের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরোনো ও ভেঙে যাওয়া বেঞ্চ টেবিল পরিষ্কার করার পর মেরামতের জন্য এক কিলোমিটার দূরের দোকানে নিতে শিক্ষার্থীদের মাথায় বহন করা নিয়ে তোলপাড় চলছে। স্কুলের অফিস সহায়ক (পিয়ন) থাকার পরও জেলার গ্রামপর্যায়ের স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীদের দিয়ে কক্ষ পরিষ্কারসহ নানা কাজ করানো নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, গেল আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পিয়ন নিয়োগে দলীয়করণ ও অধিকতর শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকার কারণে অনেক পিয়নই স্কুল ঝাড়ু দেওয়া, কক্ষ পরিষ্কার করা, পানি আনা এসব কাজ না করে দাদাগিরি করে বেড়ান। ওইসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের দিয়ে পিয়নের কাজ করানো হচ্ছে। গেল ৩ দিন শিক্ষার্থীদের দিয়ে এমন কাজ করানোর ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকহারে প্রচারিত হচ্ছে। এতে ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা।
শনিবার জেলা সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার অসিম প্রসাদ বিশ্বাস যুগান্তরকে জানান, বিষয়টি তার নজরে আসার পর পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের ১৬নং চরপাতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল হককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের দিয়ে এ ধরনের কাজ করানোকে অন্যায় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধান শিক্ষক আব্দুল হক জানান, ওই সময় তিনি স্কুলে ছিলেন না। বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় বিরতির সময় স্কুলের পুরোনো আসবাবপত্রের মধ্যে ভেঙে যাওয়া ৩টি টেবিল, ৬/৭টি বেঞ্চ, কয়েকটি চেয়ার মেরামতের জন্য ভ্যানযোগে লাহারী বাজারে নেওয়া হচ্ছিল। ওই সময় ৩টি বেঞ্চ ভ্যানে তোলা সম্ভব না হওয়ায় ভ্যান চালক কয়েকটি ছাত্রকে বেঞ্চগুলো নিয়ে সামনে আসতে বলে। ওই বেঞ্চ নিতে দেখে অপর কিছু শিক্ষার্থী কক্ষ থেকে পুরোনো সব কাঠ বের করতে শুরু করে। বিষয়টি শিক্ষকদের নজরে এলে তৎক্ষণাৎ শিক্ষার্থীদের বিরত করা হয়। ততক্ষণে বেঞ্চ মাথায় নিয়ে লাহারী বাজারে চলে যায়।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এমনটা জানালেও স্কুল থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার দূরে বেঞ্চ বয়ে নিয়ে যেতে দেখা যায় শিক্ষার্থীদের। প্রধান শিক্ষক ওই স্কুলে ২৩ বছর চাকরি করছেন। স্কুলে ২৬০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। শিক্ষক সংখ্যা ৭। রুবেল ওই স্কুলের অফিস সহায়ক। তিনি এলাকার সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের চাচাত ভাই। অভিভাবকরা জানান, প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান রুবেল স্কুলে পিয়ন পদে চাকরি করলেও স্কুল ঝাড়ু দেওয়া বা ধোয়া মোছার কাজ করতে তিনি অভ্যস্ত নন। একই চিত্র দেখা গেছে, তজুমদ্দিন উপজেলার চাঁদপুর নূরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ অনেক স্কুলে। তজুমদ্দিন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার রিয়াজ আলম জানান, ওই ঘটনা এক বছর আগের ছিল। তিনি যোগদানের পর ঠিকমতো কাজ না করার অভিযোগে এক পিয়নকে শোকজ ও ৪ মাসের বেতন বন্ধ করা হয়। এরপর থেকে ঠিকমতো কাজ করছে। অপর এক স্কুলের পিয়ন দীর্ঘদিন অনুপস্থিত রয়েছে। ভোলা সদরের কালীকীর্তি সরকারি প্রাথমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক মনির উদ্দিন জানান, অফিস সহায়ক (পিয়ন) বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সঠিকভাবে কাজ না করায় শিক্ষার্থী বা শিক্ষকরা পিয়নদের অনেক কাজ করে থাকেন। তাই পিয়নদের বদলি ব্যবস্থা রাখার দাবি করেন ওই প্রধান শিক্ষক।








