জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ দাবি করেছেন, দেশে ভোট কারচুপি শুধু জুলাই অভ্যুত্থানের আগেই নয়, পরেও হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, অতীতের নির্বাচনে ফল ঘোষণার আগে ভোট চুরি হলেও সর্বশেষ নির্বাচনে ফল প্রকাশের পর ভোটের ফল পরিবর্তন করা হয়েছে।
আজ শুক্রবার বিকেলে নোয়াখালী সুপার মার্কেটের সামনে আয়োজিত ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে তিনি এসব কথা বলেন। এতে নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদসহ এনসিপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে মাইজদীর মফিজ প্লাজা থেকে পদযাত্রা শুরু হয়।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে ভোট চুরি হয়েছিল ফল ঘোষণার আগেই। তবে সর্বশেষ নির্বাচনে ভিন্ন ধরনের কারচুপির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলেও চূড়ান্ত ফলে বিএনপি সেই ভোট নিজেদের পক্ষে নিয়ে গেছে।
বিএনপির উদ্দেশে তিনি বলেন, জনগণের মতামত উপেক্ষা করে কোনো সংস্কার কার্যকর করা সম্ভব নয়। এক কোটি কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিলেও সরকার ছয় মাসে একটি কর্মসংস্থানও নিশ্চিত করতে পারেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
হাসনাত বলেন, ‘বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে মানুষের হাতে বিদ্যুতের পরিবর্তে হারিকেন ও মোমবাতি ধরিয়ে দিয়েছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমরা সবাই বিদ্যুৎ নিয়ে প্রোপাগান্ডা করেছি, আগে মাঝে মাঝে বিদ্যুৎ যেত, এখন যায় না মাঝে মাঝে আসে।’
বিএনপির অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করেন এনসিপির এই নেতা। তিনি বলেন, গত ৬ মাস বিএনপির হাইব্রিড নেতাকর্মীদের অত্যাচারে মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। গত ১৬/১৭ বছর বিএনপির অনেক নেতাকর্মী নির্যাতন নিপিড়নের কারণে ধানখেতে, রাস্তাসহ বিভিন্ন জায়গায় পালিয়ে ছিলেন। কিন্তু আজকে যখন বিএনপি সরকার নির্বাচিত হয়েছে, তখন এসব ত্যাগী নেতাকর্মীদের সেখানে ঠাঁই হয় নাই। আমরা বিএনপির এসব ভাইদের বলতে চাই, এনসিপিতে আপনাদের জন্য দরজা সব সময় খোলা। হাইব্রিড বিএনপির ট্রেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, বাসস্ট্যান্ড দখলে মূল নেতাকর্মীরা বিরক্ত।’








