বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
তিনি বলেন, “গুমের ঘটনায় সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় আইনগত সংস্কার এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।”
শনিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’ আয়োজিত এক পরামর্শ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী জানান, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে বিবেচিত মামলাগুলো পর্যালোচনা করে প্রত্যাহারের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, ধর্ষণের অভিযোগসংক্রান্ত কোনো মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করা হলেও তা প্রত্যাহার করা হবে না। আর মাদক মামলার ক্ষেত্রে প্রতিটি অভিযোগ পৃথকভাবে যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, “মানবাধিকার কমিশন আইন এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন প্রণয়নের আগে সুশীল সমাজ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে একাধিক দফায় মতবিনিময় করা হয়েছে। আইন দুটির খসড়া ইতোমধ্যে মন্ত্রিসভা কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।”
মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর সেগুলো দ্রুত জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতার প্রসঙ্গ তুলে আইনমন্ত্রী বলেন, “কেবল সাংবিধানিক ঘোষণা যথেষ্ট নয়; যোগ্য, দক্ষ ও সৎ বিচারক নিয়োগের মাধ্যমে স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।”
তিনি অতীতে রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তার ও হয়রানির বিভিন্ন ঘটনার সমালোচনা করে বলেন, “সে সময় বিচার বিভাগের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ছিল।”
সরকারের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, “আধিপত্যবাদ, সাম্রাজ্যবাদ, নৈরাজ্যবাদ ও মৌলবাদের বিরুদ্ধে সরকার তার নীতিগত অবস্থান বজায় রাখবে।”
একই সঙ্গে চলমান সংস্কার কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়নে কিছুটা সময় প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে ‘অধিকার’ এর সভাপতি ড. তাসমিন সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ‘আমার দেশ’ এর সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম, সাবেক বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী এবং অধিকারের পরিচালক এএসএম নাসিরুদ্দিন এলানসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা বক্তব্য দেন।








