চট্টগ্রাম বন্দরের লাভজনক নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) বিদেশিদের কাছে ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ বন্ধসহ ৫ দফা দাবিতে আবারও আন্দোলনে যাচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটি। দাবি আদায়ে এ কমিটি ১ জুলাই সমাবেশ ও মানববন্ধনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। রোববার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন এবং আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এনসিটি বিদেশিদের না দেওয়ার জন্য চট্টগ্রাম বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারী থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন। অন্তর্বর্তী সরকার এ সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হটলেও বন্দরের এনসিটি ও সিসিটি দুবাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার জন্য আবার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বর্তমান সরকার। এর প্রতিবাদেই ৫ দফা দাবি আদায়ে কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে। ইজারার উদ্যোগ বন্ধসহ অন্য চারটি দাবির মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রাম বন্দরের সব টার্মিনাল বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণে পরিচালনা করা, বন্দর-সংশ্লিষ্ট সব চুক্তি জনগণের সামনে প্রকাশ করা, জাতীয় স্বার্থবিরোধী কোনো চুক্তি না করা এবং চট্টগ্রাম বন্দরকে জাতীয় মালিকানা, নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তার আওতায় রাখার ঘোষণা দেওয়া। তারা বলেন, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) কাঠামোর আওতায় এনসিটির পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এ লক্ষ্যে গঠিত নেগোসিয়েশন কমিটিকে সহায়তা দিতে চবক ১২ সদস্যবিশিষ্ট একটি সাপোর্ট টিমও গঠন করেছে। এতে তারা শঙ্কিত। তাদের দাবি, এনসিটির বার্ষিক অবকাঠামোগত সক্ষমতা ১১ লাখ টিইইউএস। এরপরও এই টার্মিনাল বছরে ১৩ লাখ টিইইউস কন্টেইনার হ্যান্ডল করছে। এতেই বোঝা যায় দেশীয় প্রতিষ্ঠান এনসিটি পরিচালনায় সক্ষম। তাই বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে এই টার্মিনাল ইজারা দেওয়ার কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র (টিইউসি) চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি তপন দত্ত, জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, প্রকৌশলী সুভাষ চন্দ্র বড়ুয়া, বন্দর রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব ফজলুল কবির মিন্টু প্রমুখ।