নড়াইলে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে রজিবুল ইসলাম (৩০) নামে এক ইলেকট্রিশিয়ানের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাত আনুমানিক ১১টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত রজিবুলের বাড়ি নড়াইল সদর উপজেলার হবখালী ইউনিয়নের হৈধরখোলা গ্রামের নান্নু মোল্যার ছেলে। তিনি পেশায় ইলেকট্রনিক মিস্ত্রি।
নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নড়াইল সদর উপজেলার হবখালী ইউনিয়নের হৈধরখোলা গ্রামের রজিবুল শনিবার (১৮ জুলাই) নড়াইল পৌর এলাকার ভওয়াখালী গ্রামের কুয়েত প্রবাসী খোকন শেখের বাড়ি ইলেকট্রিক কাজ করতে আসেন। এসময় অসাবধানতাবশত রজিবুল এবং তার সহকর্মী ওমর ফারুক বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মারাত্মক আহত হয়। স্থানীয়রা তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে আনলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাতে রজিবুল মারা যায়। বুধবার (২২ জুলাই) নিহত রজিবুলের মরদেহ বাড়িতে আনেন তার স্বজনেরা।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, ভওয়াখালী গ্রামের কুয়েত প্রবাসী খোকন শেখ বিদ্যুৎ অফিসের নিয়ম অমান্য করে জোরপূর্বক বৈদ্যুতিক খুঁটি জড়িয়ে বসতবাড়ির ভবন নির্মাণ করছেন। বিদুৎ অফিস তাদের নিষেধ করলেও তারা সেটি আমলে নেয়নি। তাদের খামখেয়ালি কাজের জন্য এক জনের মৃত্যু হয়েছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে বিচার দাবি করি।
নিহতের বড় ভাই আশরাফুল বলেন, ‘খোকনের বাড়ির ভেতর দিয়ে ৩৩ হাজার ভোল্টের উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন বিদুৎ রয়েছে সেটি রজিবুল জানত না। খোকনের বাড়ি কাজ করতে গিয়ে শনিবার আমার ভাই বিদ্যুৎস্পৃষ্টে আহত হয়। আজ সে মারা গেল।’
এ বিষয়ে ঘরের মালিক কুয়েত প্রবাসী খোকন শেখের বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিক বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও সম্ভব হয়নি।
নড়াইল বিদ্যুৎ অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী, মো. আবু দারদা বলেন, ‘কুয়েত প্রবাসী খোকনের বাড়িতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুইজন আহত হয়েছেন। তারমধ্যে একজন মারা গেছে। দুর্ঘটনার আগের দিন ওই জায়গায় বিদ্যুতে সমস্যা দেখা দিলে কর্মচারীরা ঘটনাস্থলে যায়। তারা সেখানে গিয়ে দেখতে পায় দুইতলা ভবনের উপরে ৩য় তলায় এক গ্রাহক ৩৩ হাজার ভোল্টের বিদুৎ সংযোগের কাছাকাছি টিনের চাল দিয়ে ঘর তৈরি করছেন। এরপর আমরা মৌখিক ভাবে ঘর নির্মাণ সহ সব কাজ বন্ধ করতে নিষেধ করি। এছাড়া ওই দিন টিনের চাল খুলে বিদুৎ সংযোগ চালু করা হয়। কিন্তু তারা নিষেধ অমান্য করে বাড়ির মালিক ঘর নির্মাণ কাজ শুরু করে। পরে তারা বিদ্যুতায়িত হয়।
নড়াইল পৌরসভা প্রশাসক মো. নাজমুল হুদা বলেন, ‘নিয়মবহিভূত ভাবে ভবন নির্মাণ করায় বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু বলেন, এবিষয়ে কেউ এখনও অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হাফিজুল নিলু/কেজে/জেআইএম








