সব রকম চেষ্টা করেও বিদ্যুতের জোগান ১২ থেকে ১৩ হাজারের ওপরে ওঠাতে পারেনি বিদ্যুৎ বিভাগ। বিপরীতে চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দিনে-রাতে আড়াই হাজার থেকে ৩ হাজার মেগাওয়াট ঘাটতি হচ্ছে। তবে সেপ্টেম্বর মাসের জন্য খোলাবাজার থেকে এলএনজি কার্গোর জোগাড় হওয়ায় গ্যাসের সংকট কিছুটা হলেও কমে আসতে পারে বলে আশা করছে পেট্রোবাংলা।
গতকাল সোমবার বেলা ১টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টার বিদ্যুতের হিসাব বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, রোববার রাত ১টায় লোডশেডিং ছিল ৩ হাজার ৫৩৫ মেগাওয়াট; আবার সোমবার বেলা ১টায়ও লোডশেডিং ছিল ২ হাজার ৯০৪ মেগাওয়াট। এ ছাড়া এই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লোডশেডিংয়ের চাপ ১ হাজার ৯১৬ মেগাওয়াটের নিচে নামেনি। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অন্তত ৬ ঘণ্টা ৩ হাজার মেগাওয়াটের ঘাটতির মধ্য দিয়ে অতিক্রম হয়েছে। আড়াই হাজার মেগাওয়াটের ঘাটতি ছিল ৬ ঘণ্টা।
এদিকে মাত্রাছাড়া লোডশেডিংয়ের কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বড় বড় শিল্পকারখানার পাশাপাশি পোলট্রি খামার, গরুর খামার, সেচ, কৃষি—সবকিছুই বিপাকে পড়েছে। কিছু কিছু এলাকায় উত্তেজিত জনতা আবারও বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাওয়ের মতো ঘটনা ঘটাচ্ছে।
ঢাকা শহরাঞ্চলের দুই বিতরণ সংস্থা ডেসকো ও ডিপিডিসি গ্রামের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতিটি ফিডার লাইনে দিনে অন্তত তিনবার করে লোডশেডিং দিচ্ছে। জুলাই মাসে কম হলেও আগস্টে ঢাকায় তীব্র লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জনজীবন। কেবল দিনে নয়, রাতের বেলায়ও কিছু কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে।
ঢাকার উত্তরাংশের বিতরণের দায়িত্বে থাকা ডেসকো সোমবারের লোডশেডিংয়ের যে সূচি প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যায়, ৬১৮টি ১১ কেভির ফিডার লাইনের প্রতিটিতে সকাল ৯টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত সময়ে পালা করে অন্তত তিন ঘণ্টা হারে লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে। গরমের সময় ডেসকোর সর্বোচ্চ চাহিদা ১ হাজার ৪২১ মেগাওয়াট। সরবরাহ ১ হাজার মেগাওয়াটের নিচে।
অন্যদিকে ঢাকার দক্ষিণাঞ্চলের বিতরণের দায়িত্বে থাকা ডিপিডিসি লোডশেডিংয়ের সূচি প্রকাশ না করলেও বিতরণ এলাকার গ্রাহকেরা দিনে কয়েকবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন।
দেশীয় গ্যাসের মজুত কমতে থাকায় প্রতিবছর ১১৫ কার্গো এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার। সেই হিসাবে প্রতি মাসে অন্তত ১১ কার্গো এলএনজির দরকার। কিন্তু গত জুলাই ও আগস্ট মাসে ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে আগুন, কার্গো সংকট, বৈরী আবহাওয়াসহ বিভিন্ন কারণে এলএনজি কার্গো এসেছে মাত্র ছয়টি। এতে এলএনজি থেকে গ্যাসের সরবরাহ দৈনিক গড়ে ৫০০ থেকে ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে এসেছে। যদিও এলএনজি থেকে ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা ওই টার্মিনালের রয়েছে।
এদিকে গত দুই মাসে দেশীয় গ্যাসের উত্তোলনও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমেছে। আগে যেখানে দৈনিক ১ হাজার ৬৩০ থেকে ১ হাজার ৬৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস দেশীয় কূপগুলো থেকে আসত; এখন সেটা ১ হাজার ৬১০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে এসেছে।
পেট্রোবাংলার একজন কর্মকর্তা জানান, সেপ্টেম্বর মাসের জন্য বেশ চড়া দামে আট কার্গো এলএনজি কেনা ইতিমধ্যেই নিশ্চিত করা হয়েছে। ক্রয় কমিটির পরবর্তী বৈঠকে আরও দুই কার্গো এলএনজি কেনা নিশ্চিত করা হবে। সেপ্টেম্বর মাসে ১০ কার্গো এলএনজি সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে সেই মাসে গ্যাস-সংকট আরও কমে আসবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
সেপ্টেম্বর মাসের জন্য কেনা আট কার্গো এলএনজির প্রতিটির দাম ইউনিটপ্রতি (এমএমবিটিইউ) ২৩ থেকে ২৪ ডলার করে খরচ হয়েছে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।
রোববার সন্ধ্যা ৬টায় দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে ৭১২ মিলিয়ন ঘনফুট হারে এলএনজি আসছিল, যা গত দুই মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এই সময় সামগ্রিকভাবে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস যাচ্ছিল ২ হাজার ৩২২ মিলিয়ন ঘনফুট। দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট বিবেচনা করা হলেও ২ হাজার ৭০০ থেকে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করতে পেরেছিল পেট্রোবাংলা।








