স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে এখনো ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ জানানো হয়নি। ঘোষণা হয়নি তফসিলও। তবে থেমে নেই প্রার্থীদের তৎপরতা। খুলনার কয়রা উপজেলার ইউনিয়নগুলোয় ইতোমধ্যে নির্বাচনি হাওয়া বইতে শুরু করেছে। সম্ভাব্য প্রার্থী এবং তাদের সমর্থকরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার চালাচ্ছেন। পোস্টার-ব্যানার-ফেস্টুনসহ নানা উপায়ে নিজেদের প্রার্থিতা জানান দিচ্ছেন তারা। এই উপজেলার ৬ ইউনিয়নে ইতোমধ্যে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে জামায়াতে ইসলামী। একটিতে প্রার্থী খুব তাড়াতাড়ি ঘোষণা করবে দলটি। অন্যদিকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশ নেওয়া এখন পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে। বিষয়টি নিয়ে দলটির সম্ভাব্য প্রার্থীরা দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছেন। তবে উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে ক্ষমতাসীন বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী রয়েছেন ২০ জন। তারা সবাই দলীয় সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করছেন। মনোনয়ন না পেলে তাদের অনেকেই প্রার্থী হবেন না বলে জানিয়েছেন।

কয়রার আমাদী ইউনিয়নে বিএনপির সম্ভাব্য ৪ প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে। তারা হলেন ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ, খুলনা জেলা যুবদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার জাহিদুর রহমান শোভন, বিএনপি নেতা জোবায়ের আহমেদ ও আ. হামিদ। এখানে জামায়াতের প্রার্থী ইউনিয়ন আমির মাওলানা সাজ্জাদুল ইসলাম। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে আহাদ খোকন নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন।

বাগালীতে বিএনপির সম্ভাব্য ৩ প্রার্থী রয়েছেন। তারা হলেন ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক এসএমএ রহিম, বিএনপি নেতা আশরাফুল ইসলাম পল্টু এবং যুবদল নেতা সাইফুজ্জামান। জামায়াতের প্রার্থী মো. সালাহ উদ্দিন। এছাড়া সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান কপোতাক্ষ কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. ওলিউল্যাহ ও সাবেক ইউপি সদস্য সোহরাব হোসেন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নে বিএনপির সম্ভাব্য ৪ প্রার্থীর নাম আলোচনায় এসেছে। তারা হলেন ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক জিএম রফিকুল ইসলাম, বিএনপি নেতা নাজমুল হুদা, যুবদল নেতা হাবিবুন্নবী পীর আলী ও বিএনপি নেতা ঠিকাদার মেহেদী হাসান। জামায়াতের প্রার্থী দৈনিক সকালের বার্তা পত্রিকার সম্পাদক এম আয়ুব আলী।

মহরাজপুরে বিএনপির সম্ভাব্য ৩ প্রার্থী হলেন জেলা বিএনপির সদস্য মনিরুজ্জামান বেল্টু, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শরিফুল আলম ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ইউপি সদস্য নুরুল ইসলাম খোকা। জামায়াতের প্রার্থী ইউনিয়ন আমির মো. সাইফুল্লাহ হায়দার। এর বাইরে সাবেক সেনাসদস্য আনোয়ার হোসেন ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সদর উদ্দিন আহমেদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন।

কয়রা সদর ইউনিয়নে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসাবে ২ জনের নাম শোনা যাচ্ছে। তারা হলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব নুরুল আমিন বাবুল ও খুলনা জেলা বিএনপির সদস্য এমএ হাসান। এ ইউনিয়নে এখন পর্যন্ত জামায়াত কোনো প্রার্থী ঘোষণা দেয়নি। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. হুমায়ুন কবির প্রচার চালাচ্ছেন।

উত্তর বেদকাশিতে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসাবে ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি সরদার মতিয়ার রহমানের নাম জোরেশোরে আলোচিত হচ্ছে। দলের হয়ে তিনিই একমাত্র প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। এখানে জামায়াতের প্রার্থী ইউনিয়ন আমির মো. নুর কামাল।

দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়নটি কয়রার সর্ব দক্ষিণে অবস্থিত। এখানে বিএনপির তিনজন প্রার্থী হতে প্রচার চালাচ্ছেন। তারা হলেন ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মঞ্জুর আলম নান্নু, ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক গাজী সিরাজুল ইসলাম ও বর্তমান ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা ওসমান গনি খোকন। এখানে জামায়াতের প্রার্থী সাবেক ইউপি সদস্য মো. বিল্লাল হোসেন।

কয়রা উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব নুরুল আমিন বাবুল বলেন, ৭টি ইউনিয়নে দলের একক প্রার্থী দেওয়া হবে। কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হবে। আশা করছি, অধিকাংশ ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থী বিজয়ী হবে।

এ নির্বাচন নিয়ে উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মিজানুর রহমান বলেন, ইতোমধ্যে ৬টি ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। বাকি একটির প্রার্থীর নাম খুব তাড়াতাড়ি ঘোষণা করা হবে। সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের যাচাই শেষে প্রার্থী করা হয়েছে। আমাদের প্রার্থীদের বিজয়ের সম্ভাবনা বেশি।

কয়রা সদরের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. হুমায়ুন কবির বলেন, বিগত নির্বাচনের মতো প্রহসনের নির্বাচন যাতে না হয়, সে ব্যাপারে প্রশাসনের কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাই।