ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সারোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বাতিলের বৈধতা প্রশ্নে রুলের ওপর শুনানি শেষ হয়েছে। এ বিষয়ে রায়ের জন্য ৯ জুলাই তারিখ ধার্য করেছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ বৃহস্পতিবার রায়ের এ দিন ধার্য করেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় গত ১২ ফেব্রুয়ারি। চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সারোয়ার আলমগীর অংশ নেন। তবে নির্বাচনে তাঁর ফলাফল প্রকাশ সর্বোচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তে স্থগিত রয়েছে।
এর আগে নির্বাচন কমিশনে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বাতিল হয়। এ নিয়ে নির্বাচনের আগে প্রার্থিতা ফিরে পেতে হাইকোর্টে রিট করেন সারোয়ার আলমগীর। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত ২৭ জানুয়ারি হাইকোর্ট রুল দিয়ে সারোয়ার আলমগীরকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের অনুমতি দিতে ও ‘ধানের শীষ’ প্রতীক বরাদ্দ দিতে নির্দেশ দেন।
তবে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করেন একই আসনে জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিন। ঋণখেলাপির অভিযোগ এনে তিনি এ আবেদন করেন। লিভ টু আপিল মঞ্জুর করে গত ৩ ফেব্রুয়ারি আদেশ দেন আপিল বিভাগ। তাতে বলা হয়, যদি তিনি (সারোয়ার আলমগীর) নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে সফল হন, তবে সংশ্লিষ্ট আসনের নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ (যতটুকু প্রার্থী হিসেবে তাঁদের জন্য প্রযোজ্য) এ-সংক্রান্ত আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে।
লিভ টু আপিল মঞ্জুরের পর গত ৩১ মার্চ নিয়মিত আপিল করেন জামায়াতের প্রার্থী। এই আপিলের ওপর শুনানি শেষে ১৬ জুন আদেশ দেন আপিল বিভাগ। আপিল নিষ্পত্তি করে দেওয়া আদেশে আপিল বিভাগ দ্রুত সম্ভাব্য দুই সপ্তাহের মধ্যে হাইকোর্টে রুল নিষ্পত্তি করতে বলেন। রুল নিষ্পত্তি হওয়া পর্যন্ত গত ৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগের দেওয়া আদেশ চলমান থাকবে বলে উল্লেখ করা হয়। অর্থাৎ রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সারোয়ার আলমগীর নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে ফলাফল প্রকাশ (যতটুকু প্রার্থী হিসেবে তাঁদের জন্য প্রযোজ্য) স্থগিত থাকবে।
আপিল বিভাগের আদেশের পর রিটটি চূড়ান্ত শুনানির জন্য হাইকোর্টের কার্যতালিকায় ২১ জুন ওঠে। সেদিন আদালত রুল শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন। এর ধারাবাহিকতায় শুনানি হয়।
আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম এবং এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, আইনজীবী নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম শুনানিতে অংশ নেন, সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মো. আনোয়ার হোসেন। জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির, সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী ও আবদুল্লাহ সাদিক। নির্বাচন কমিশনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মো. রাজু মিয়া।
পরে আইনজীবী আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী প্রথম আলোকে বলেন, রিটের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষ হয়েছে। হাইকোর্ট আগামী বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রায়ের জন্য দিন ধার্য করেছেন।








