বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) আপত্তির কারণে সীমান্তের ৪ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার এলাকায় এখনো কোনো কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেছে আসাম সরকার। এ ছাড়া আসাম-বাংলাদেশ সীমান্তের আরও ৩৪ দশমিক ৬০৯ কিলোমিটার এলাকা নদীবেষ্টিত হওয়ায় সেখানেও কোনো প্রথাগত স্থল বেড়া নেই।
ভারতীয় টেলিগ্রাফের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, আজ সোমবার আসাম বিধানসভার বাজেট অধিবেশনে আসাম গণ পরিষদ (এজিপি) দলের বিধায়ক দীপ্তিময়ী চৌধুরীর লিখিত প্রশ্নের জবাবে রাজ্যের সীমান্ত সুরক্ষা ও উন্নয়ন মন্ত্রী অতুল বরা এমন দাবি করেছেন।
মন্ত্রী জানান, ধুবড়ি, দক্ষিণ শালমারা-মানকাচর, কাছাড় এবং শ্রীভূমি জেলা জুড়ে বিস্তৃত ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের মোট ২৬৭ দশমিক ৫ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে এ পর্যন্ত ২২৮ দশমিক ৫৪১ কিলোমিটার অংশে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তবে শ্রীভূমি জেলার কুশিয়ারা নদীর তীরবর্তী ৪ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় বিজিবির নানাবিধ আপত্তির কারণে বেড়া দেওয়ার কাজ আটকে রয়েছে।
অতুল বরা বলেন, এই অমীমাংসিত সীমান্ত এলাকায় মূলত ভারতীয় নাগরিকেরা বসবাস করেন। জিরো লাইনটি কুশিয়ারা নদীর মাঝখান দিয়ে যাওয়ায় সেখানে বেষ্টনী নির্মাণ এমনিতেই অত্যন্ত জটিল। ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী সেখানে নদী ভাঙন রোধ ও সুরক্ষার জন্য একটি গার্ড ওয়াল নির্মাণ করতে চাইলেও, তার উচ্চতা ও নকশা নিয়ে বিজিবি আপত্তি তুলেছে। বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষীদের দাবি, এই ধরনের অবকাঠামো নদীর স্বাভাবিক প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করবে এবং বর্ষা মৌসুমে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাবে। এই বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে একাধিকবার দ্বিপক্ষীয় আলোচনা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো স্থায়ী সমাধান সূত্র মেলেনি।
সীমান্ত মন্ত্রী অতুল বরা তাঁর লিখিত জবাবে আরও উল্লেখ করেন, দুর্গম নদী এলাকা হওয়ার কারণে আরও ৩৪ দশমিক ৬০৯ কিলোমিটার সীমান্তে কোনো স্থায়ী কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া সম্ভব হয়নি। নদীবেষ্টিত এই সীমানার মধ্যে ৩০ দশমিক ৩৭ কিলোমিটার পড়েছে ধুবড়ি জেলায় এবং ৪ দশমিক ২৩৯ কিলোমিটার অংশ রয়েছে দক্ষিণ শালমারা-মানকাচর জেলায়।
তবে বেড়াবিহীন এই উন্মুক্ত নদী এলাকাগুলো সম্পূর্ণ অরক্ষিত নয়। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এই জলসীমান্তে সার্বক্ষণিক নজরদারি বজায় রাখতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। বিশেষ করে ‘কম্প্রিহেনসিভ ইন্টিগ্রেটেড বর্ডার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ (সিআইবিএমএস) এবং নদীর বুকে স্থায়ীভাবে স্থাপিত বোট অবজারভেশন আউটপোস্ট বা ভাসমান তল্লাশি চৌকির মাধ্যমে বিএসএফ এই পুরো নদী এলাকাটি কঠোর নজরদারির আওতায় রেখেছে।








