আন্তর্জাতিক বাজারে সোনা ও রুপার দামে বড় ধরনের পতন দেখা যাচ্ছে। সম্প্রতি এই দুই মূল্যবান ধাতু সর্বকালের সর্বোচ্চ দাম থেকে বেশ নিচে নেমে এসেছে। তবে ঐতিহাসিক তথ্য বলছে, এবারের পতনই ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ধস নয়। এর আগে বিশ্ববাজারে সোনা ও রুপার দামে এর চেয়েও বড় পতন দেখা গেছে। ‘ডিএসপি নেত্রা’র ২০২৬ সালের জুলাই সংস্করণের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে ১৯৭০ সালের পর থেকে সোনা ও রুপার দামের সব বড় পতন এবং তা কাটিয়ে ওঠার সময়কাল বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন
ধারণার চেয়েও কমে যেতে পারে সোনার দাম, বলছে পূর্বাভাস
সোনার দাম কমেছে ৩০ শতাংশ
চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম রেকর্ড ৫ হাজার ৬০২ ডলারে উঠেছিল। এরপর থেকে দাম কমতে কমতে তা ৩ হাজার ৯৪২ ডলারে নেমে আসে। অর্থাৎ, সর্বোচ্চ দাম থেকে সোনার দাম কমেছে প্রায় ৩০ শতাংশ।
ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯৮০ সালের জানুয়ারি মাসে রেকর্ড ছোঁয়ার পর সোনার দাম এক ধাক্কায় ৭১ শতাংশ কমে গিয়েছিল। সেই ধাক্কা সামলে সোনার দাম স্বাভাবিক হতে সময় লেগেছিল প্রায় সাড়ে ১৯ বছর।
এছাড়া ১৯৭৪ সালে ৪৯ শতাংশ এবং ২০১১ সালে সোনার দাম ৪৬ শতাংশ কমেছিল। সেই তুলনায় এবারের পতন কিছুটা কম।
আরও পড়ুন
সোনার দামে রেকর্ড পতন, এই সুযোগ থাকবে কতদিন?
রুপার দামে ৫৪ শতাংশ ধস
সোনার চেয়ে রুপার দাম এবার অনেক বেশি কমেছে। গত জানুয়ারি মাসে প্রতি আউন্স রুপার দাম রেকর্ড ১২১ দশমিক ৬ ডলারে পৌঁছেছিল। এরপর বড় পতনের মুখে পড়ে এই ধাতু।
দাম কমে প্রতি আউন্স রুপা ৫৫ দশমিক ৬ ডলারে নেমে আসে, যা আগের চেয়ে প্রায় ৫৪ শতাংশ কম।
তবে রুপার ক্ষেত্রেও এটি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় পতন নয়। ১৯৮০ সালের পর বিশ্ববাজারে রুপার দাম সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে ৯৩ শতাংশ পর্যন্ত কমে গিয়েছিল। সেই ক্ষতি কাটিয়ে আগের অবস্থানে ফিরতে রুপার সময় লেগেছিল ৩১ বছরেরও বেশি। আর ২০১১ সালে রুপার দাম কমেছিল ৭৭ শতাংশ।
আরও পড়ুন
সোনা কেন কিনে রাখবেন?
ক্ষতি কাটাতে লাগবে দীর্ঘ সময়
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দামে বড় পতন হলেও বাজার পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে এখনো অনেক সময় বাকি। অতীতে দেখা গেছে, সোনা ও রুপার দামের এই মন্ ভাব কেটে আগের রেকর্ড স্পর্শ করতে কয়েক বছর থেকে শুরু করে কয়েক দশক পর্যন্ত সময় লেগেছে।
জানুয়ারি মাসে রেকর্ড দাম হওয়ার মাত্র দুই মাসের মধ্যে সোনা ও রুপা উভয়ের দামই ২৫ শতাংশের বেশি কমে যায়। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এবারের এই দরপতনের চক্রটি এখনো চলছে। তাই বাজার ঠিক কবে নাগাদ আবার আগের রেকর্ডে ফিরবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
সূত্র: মিন্ট
কেএএ/








