ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ করতে গিয়ে পুলিশের বাধার মুখে পড়েছেন বিরোধী কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর নেতৃত্বে দলটির নেতা-কর্মীরা রাজধানী নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের দিকে মিছিল নিয়ে যান। পরে সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবসহ বিরোধী দলের আরও কয়েকজন নেতা এতে যোগ দেন। সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটের দিকে পুলিশ রাহুল, প্রিয়াঙ্কা ও অখিলেশসহ বিক্ষোভকারীদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয়।

ভারতে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা ‘নিট’ ও অন্যান্য সরকারি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং এ নিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের দমন-পীড়নের প্রতিবাদে এ কর্মসূচি পালন করে কংগ্রেস। আগের দিন, সোমবার ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) নেতৃত্বাধীন একটি মিছিল সংসদের দিকে এগোলে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়। পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। কংগ্রেসের অভিযোগ, এতে বহু শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে রাহুল গান্ধী রাস্তার ওপর বসে পড়েন এবং সরে যেতে অস্বীকৃতি জানান। এ সময় অন্তত ১০ জন পুলিশ সদস্য তাঁকে ঘিরে রাখেন। পরে তাঁকে বাসে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এর আগে এক পোস্টে রাহুল বলেন, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা আসলে ভারতের প্রতিটি পরিবারের ওপর হামলার শামিল। তিনি দাবি করেন, সরকারকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের ন্যায়ের দাবিকে উপেক্ষা করা যাবে না।

কংগ্রেসের দাবি, প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে সংসদে আলোচনা করতে হবে এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হবে। কংগ্রেস সাংসদ সৈয়দ নাসির হুসাইন বলেন, সরকার তাদের বিক্ষোভ প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছিল, কিন্তু দাবি পূরণ না হওয়ায় তাঁরা তা মানেননি।

বিক্ষোভের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং ঘটনাস্থলে গিয়ে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে কথা বলেন। তবে দুই পক্ষের আলোচনায় সমাধান হয়নি। পরে জিতেন্দ্র সিং দাবি করেন, রাহুল প্রথমে শুধু সংসদে প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে আলোচনার দাবি জানালেও পরে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিও যুক্ত করেন। কংগ্রেস অবশ্য এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত নয়।

ঘটনার পরপরই পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেয়। বিজেপি অভিযোগ করে, কংগ্রেসের কর্মসূচির কারণে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়েছে। কংগ্রেসের পাল্টা দাবি, তাদের বিক্ষোভ ছিল সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ।

এদিকে সোমবারের বিক্ষোভে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে। সিজেপির দাবি, পুলিশের লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাসে বহু মানুষ আহত হয়েছেন। অন্যদিকে দিল্লি পুলিশ বলেছে, বিক্ষোভকারীরা পাথর ছুড়েছেন, পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করেছেন এবং সহিংসতায় জড়িয়েছেন। পুলিশের দাবি, তাদের ১১৮ জন সদস্য আহত হয়েছেন।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি নিয়ে সংসদেও উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দুই দিনই নির্ধারিত সময়ের আগেই সংসদ মুলতবি হয়ে যায়। কংগ্রেসের অভিযোগ, বিরোধীদের কথা বলার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না।

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেছেন, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো ঘটনা ঠেকানো জাতীয় দায়িত্ব। তাঁর সরকার অভিযোগ প্রকাশের পরপরই ব্যবস্থা নিয়েছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। তবে বিরোধীদের আন্দোলন ও সরকারের পাল্টা অবস্থানের কারণে প্রশ্নপত্র ফাঁস ইস্যুতে ভারতের রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।