সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবস বুধবার (১৫ জুলাই) প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বিমা ও বস্ত্র খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ারের ঢালাও দরপতন হয়েছে। তবে বাছাই করা ও বড় মূলধনের বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দাম বেড়েছে। ফলে দাম তার তালিকা বড় হলেও মূল্যসূচক বেড়েছে। অবশ্য লেনদেনের পরিমাণ কমেছে।
অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) দাম কমার তালিকায় নাম লিখিয়েছে বেশি প্রতিষ্ঠান। তবে ডিএসইর মতো এই বাজারেও বড় মূলধনের বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ায় মূল্যসূচক বেড়েছে। তবে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ। এর মাধ্যমে চলতি সপ্তাহের চার কার্যদিবসেই দুই বাজারেই মূল্যসূচক বাড়লো।
এদিন ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতেই সূচকের বড় উত্থান প্রবণতা দেখা যায়। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম বাড়ায় একপর্যায়ে ডিএসইর প্রধান সূচক ৫৫ পয়েন্ট বেড়ে যায়। তবে প্রথম ঘণ্টার লেনদেন শেষ হতেই বিমা ও বস্ত্রখাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ার দামে ঢালাও পতন হতে থাকে।
বিমা ও বস্ত্রখাতের পতনের হাওয়া লাগে অন্যান্য খাতেও। ফলে বড় হয় দাম কমার তালিকা। অবশ্য এই পতনের মধ্যে দাম বাড়র ধারা ধরে রাখে বড় মূলধনের বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান। এতে দাম কমার তালিকা বড় হলেও মূল্যসূচক বেড়েই দিনের লেনদেন শেষ হয়।
আরও পড়ুন
ব্যাংক-বস্ত্রে ভর করে দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে সূচক
দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ১৩১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ২১৮টির এবং ৫১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। অপরদিকে ১১টি বিমার শেয়ার দাম বাড়ার বিপরীতে ৪৪টির দাম কমেছে। আর ৮টি বস্ত্র কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ার বিপরীতে ৪৬টির দাম কমেছে। এমন পতনের মধ্যে বাছাই করা ৩০টি কোম্পানির মধ্যে ২২টির শেয়ার দাম বেড়েছে এবং ৬টির দাম কমেছে। বাকি দুটির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
এদিকে ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৮৪টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১০০টির দাম কমেছে এবং ২০টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ১৪টি কোম্পানির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৫৭টির এবং ৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৩৩টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৬০টির এবং ২৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে ১৮টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৪টির দাম কমেছে এবং ১২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
দাম কমার তালিকা বড় হওয়ায় পরও ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১৫ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৯২৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এর মাধ্যমে ২০২৪ সালের ১৪ আগস্টের পর সূচকটি সর্বোচ্চ অবস্থানে উঠে এলো। ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট ডিএসইর প্রধান সূচক ৫ হাজার ৯৫২ পয়েন্টে ছিল।
অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ১৫ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ২৪২ পয়েন্টে উঠে এসেছে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ২০৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
আরও পড়ুন
সংসদে অর্থমন্ত্রী / বিএসইসিতে নিয়োগ রাজনৈতিকভাবে হয়নি, আমি ব্যক্তিগতভাবে কাউকে চিনি না
মূল্যসূচক বাড়লেও ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ কমেছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৫১৫ কোটি ৯১ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ১ হাজার ৬৫১ কোটি ২৯ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন কমেছে ১৩৫ কোটি ৩৮ লাখ টাকা।
এই লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে বিএসআরএম স্টিলের শেয়ার। কোম্পানিটির ৩৭ কোটি ৪১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ব্র্যাক ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৩৬ কোটি ৭৭ লাখ টাকার। ৩৫ কোটি ৭৪ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে মালেক স্পিনিং।
এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- লাফার্জাহোলসিম, বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন, এসিআই ফর্মুলেশন, রবি, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, লাভেলো আইসক্রিম এবং সিটি ব্যাংক।
অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ৯১ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ ২৫৬ নেওয়া প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১০১টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১২৫টির এবং ৩০টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ৩২ কোটি ১৭ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৭৮ কোটি ১৫ লাখ টাকা।
এমএএস/ইএ








