অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) ব্যাংকিং সেবার ১৪টি খাতে আরোপিত চার্জ ও ফি বর্ধিত করার বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরকে জরুরি চিঠি দিয়েছেন চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক।
বুধবার (১৫ জুলাই) গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানকে দেওয়া এ চিঠিতে দেশে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ ও অর্থনীতি বর্তমানে যে ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে এমন সময়ে অহেতুক কস্ট অব ডুয়িং বিজনেস বৃদ্ধি করার মতো ব্যাংকিং সেবার চার্জ প্রস্তাব আত্মঘাতী হবে বলে উল্লেখ করা হয়।
গভর্নরের দৃষ্টি আকর্ষণ বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের জানা গেছে, দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স অব বাংলাদেশ (এবিবি) ব্যাংকিং সেবার ১৪টি নতুন খাতে ফি আরোপ এবং বিদ্যমান বিভিন্ন চার্জ বৃদ্ধির একটি প্রস্তাব বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিয়েছে।
সেখানে বলা হয় ব্যবসায়ী সমাজ মনে করে, এ জাতীয় প্রস্তাবনার দ্বারা অপ্রয়োজনীয় খরচকে বাধ্যতামূলক করে সাধারণ গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের ওপর চাপিয়ে কেবলমাত্র ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানগুলোর একতরফা মুনাফা বৃদ্ধি করা সম্ভব হলেও এতে করে কস্ট অব ডুয়িং বিজনেস আরও বৃদ্ধি পেয়ে দেশীয় পণ্য ও সেবার কম্পিটিটিভ এজ আরও হ্রাস পাবে।
চিঠিতে বলা হয়, জাতীয় অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা আনতে ও কস্ট অব ডুয়িং বিজনেস হ্রাসকল্পে ৬০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ প্রণোদনা; একক গ্রাহক ও বৃহৎ ঋণ এক্সপোজার সংক্রান্ত নীতিমালায় সাময়িক শিথিলতা; এলসি ব্যতীত সরাসরি আমদানি করা এবং সুদের স্প্রেড-এর সর্বোচ্চ সীমা ৪ শতাংশ নির্ধারণ সংক্রান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত ব্যবসায়ী সমাজের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত হয়েছে।
সেখানে আরও বলা হয়, সরকারের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী যখন দেশে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ ও জাতীয় অর্থনীতি নতুন করে গতিশীলতা অর্জন করতে যাচ্ছে, এমন সময়ে এবিবি কর্তৃক নতুন ফি আরোপ ও চার্জ বৃদ্ধির প্রস্তাবনা এই অগ্রগতির পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে। এতে দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার সরকারের উদ্যোগ ও গৃহীত সিদ্ধান্তও ব্যাহত করবে।
এবিবি কর্তৃক এলসি আবেদনে ১০০ টাকা, বৈদেশিক এলসি প্রসেসিং এ ২০ ডলার, স্থানীয় এলসি প্রসেসিং এ ১০০০ টাকা, এলসি সত্যায়নের জন্য ১০০০ টাকা, সক্রিয় এলসি বাতিলের জন্য ৫০০ টাকা ও ব্যালেন্স কনফারমেশনে ৩০০ টাকা, ঋণ প্রক্রিয়াকরণ ফি বাড়িয়ে ২ শতাংশ, পুনঃতফসিলে ১ শতাংশ এবং অগ্রিম ঋণ নিষ্পত্তি ফি বৃদ্ধি করে ২ শতাংশ করা, বায়ার্স ক্রেডিট ব্যবস্থাপনায় ১ শতাংশ, কর্পোরেট ঋণ ও ট্রেড ফাইন্যান্স ডিল স্ট্রাকচারিংয়ের ওপর ১ শতাংশ চার্জ ও অতিরিক্ত ঝুঁকি প্রিমিয়াম বাবদ ১ শতাংশ ফি আরোপ করার যে প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়িত হলে স্প্রেড কমানোর কোনো সুফল তো আসবেই না।
বরং নতুন বিনিয়োগ ও বেসরকারি ঋণপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে সামগ্রিক অর্থনীতির গতিশীলতা আরো হ্রাস ও ভোক্তা পর্যায়ের মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পাবে।
চেম্বারের চিঠিতে বলা হয়, এবিবির প্রস্তাবে মাসে নগদ টাকা উত্তোলনের ক্ষেত্রে ৪র্থ থেকে ১০ম বার পর্যন্ত ১০০ টাকা এবং এর পরবর্তীতে ৩০০ টাকা করে চার্জ আরোপ করা, বিনা চার্জের সঞ্চয়ী গড় স্থিতির সীমা কমিয়ে ৫ হাজার টাকা, ২৫ হাজার টাকার বেশি স্থিতিতে ৩০০ টাকা ফি কাটার প্রস্তাব রেখেছে।
সবচেয়ে আশঙ্কার বিষয় হলো সংগঠনটি পরিচালন ব্যয়, প্রযুক্তি ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির বৃদ্ধির অযৌক্তিক অজুহাতে প্রতিবছর ১০ শতাংশ পর্যন্ত এ ধরনের চার্জ বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছে।
এমন অযৌক্তিক দাবীর বাস্তবায়ন হলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও সাধারণ আমানতকারীদের সঞ্চয়ের প্রবণতাকে ধ্বংস করবে, সাধারণ মানুষ ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর আস্থা ও আগ্রহ দুটোই হারাবে যার ফলে সরকারের ক্যাশলেস ও ডিজিটাল ইকোনমি গড়ার উদ্যোগ মুখ থুবড়ে পড়বে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, দেশের ব্যাংক খাত এ মুহূর্তে নানামুখী চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত ফি বা চার্জ আরোপ করলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাংকিং সেবার প্রতি আস্থাহীনতা বাড়তে পারে। তাই এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সব দিক বিবেচনা করবে।
এমডিআইএইচ/ইএআর/এমকেআর








