টানা ভারী বর্ষণ ও উজানের পাহাড়ি ঢলে আবারও ফুঁসে উঠেছে খরস্রোতা তিস্তা নদী। হু হু করে বাড়ছে পানি। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে গত দুই মাসের ব্যবধানে চতুর্থবারের মতো বন্যার আতঙ্কে দিন কাটছে তিস্তাপাড়ের মানুষের। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) আশঙ্কা, যেকোনো মুহূর্তে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার সৃষ্টি হতে পারে।
সোমবার (১৩ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টায় তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে শুরু করে। রাতভর পানির পরিমাণ কখনো বৃদ্ধি পেলেও তা বিপৎসীমার নিচে নামেনি।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল ৯টা পর্যন্ত টানা ১৫ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে পানি বিপৎসীমার ওপরেই অবস্থান করছে।
তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টের তথ্যানুযায়ী, সকাল ৯টায় পানি বিপৎসীমার ৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এদিকে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তরাঞ্চলীয় রংপুর বিভাগের নদীর পানি আগামী ২ দিন তা আবারও দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে।
আরও পড়ুন
বিপৎসীমার কাছাকাছি তিস্তার পানি, বন্যার শঙ্কা
আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি করার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।
সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার বলেন, সোমবার সন্ধ্যা থেকেই ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পানি আরও বৃদ্ধি পেয়ে স্বল্পমেয়াদি বন্যার সৃষ্টি করতে পারে। তবে নদীভাঙন ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় লালমনিরহাট পাউবো সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। যেকোনো স্থানে ভাঙন দেখা দিলে তা রোধে পর্যাপ্ত বালির বস্তা ও জিও ব্যাগ মজুত রাখা হয়েছে।
মহসীন ইসলাম শাওন/এনএইচআর/এএসএম








