২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর দীর্ঘদিনের প্রধান কোচ জ্লাতকো দালিচের বিদায়ের ঘোষণা দিয়েছে ক্রোয়েশিয়ান ফুটবল ফেডারেশন। ২০১৮ বিশ্বকাপের রানার্স-আপ এবং ২০২২ বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান অর্জনকারী এই কোচ প্রায় নয় বছর দায়িত্ব পালনের পর জাতীয় দলের অধ্যায়ের ইতি টানলেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আবেগঘন বার্তায় ফেডারেশন দালিচকে ‘ক্রোয়েশিয়ার ইতিহাসের সর্বকালের সেরা কোচ’ বলে অভিহিত করে তার অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।
ফেডারেশনের বার্তায় বলা হয়, ‘একটি বিনয়ী শুরু, এক অবিস্মরণীয় যাত্রা এবং গর্বের বিদায়। প্রায় নয় বছর পর জ্লাতকো দালিচ ক্রোয়েশিয়া জাতীয় দলের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। জয়, সাফল্য, বিশ্বকাপ ও ইউরোর যোগ্যতা অর্জন, পদক, দলের ঐক্য, সম্মান এবং দেশের প্রতি আপনার অবিচল নিবেদনের জন্য ধন্যবাদ। আপনার অর্জন একজন কোচ হিসেবে আপনার সামর্থ্যের প্রমাণ, আর খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও প্রতিপক্ষের সম্মান আপনার ব্যক্তিত্বের পরিচয় বহন করে।’
২০১৭ সালের অক্টোবরে দায়িত্ব নেওয়ার পর দালিচের অধীনে ক্রোয়েশিয়া ১১১টি ম্যাচ খেলেছে। এর মধ্যে ৬২টি জয়, ২০টি ড্র এবং ২৯টি হার নিয়ে তার জয়ের হার ছিল ৬১.৯ শতাংশ। তিনি দলকে তিনটি বিশ্বকাপ ও দুটি ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে নেতৃত্ব দেন।
২০১৮ বিশ্বকাপে তার হাত ধরেই ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ফাইনালে ওঠে ক্রোয়েশিয়া। যদিও শিরোপার লড়াইয়ে ফ্রান্সের কাছে ৪-২ ব্যবধানে হেরে রানার্স-আপ হয়। এরপর ২০২২ বিশ্বকাপে ব্রাজিলকে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় করে শেষ পর্যন্ত মরক্কোকে হারিয়ে তৃতীয় স্থান অর্জন করে।
তবে ২০২৬ বিশ্বকাপ ক্রোয়েশিয়ার জন্য হতাশার ছিল। দলটি শেষ ৩২ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়। দালিচের শেষ ম্যাচ ছিল পর্তুগালের বিপক্ষে ২-১ গোলের হার।
ম্যাচটি ছিল বিতর্কিতও।
শেষ মুহূর্তে ভার্দিওলের সমতাসূচক গোল অফসাইডের কারণে বাতিল করা হয়। বলের চিপ প্রযুক্তিতে দেখা যায়, আক্রমণ শুরুর সময় বলটি ইগর মাতানোভিচের মাথায় সামান্য স্পর্শ করেছিল, যার ভিত্তিতেই অফসাইডের সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ম্যাচের পর ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল।
আরআর/আইএইচএস








