বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনার বিপক্ষে নাটকীয় হারের পর রেফারিং ও ভিএআর (ভিএআর) ব্যবহারের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছে মিশর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ইএফএ)। সংস্থাটি বলেছে, ম্যাচে ঘটে যাওয়া বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে তারা ‘চুপ করে থাকতে পারে না’ এবং এসব সিদ্ধান্ত ম্যাচের ফলাফলে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে।

মঙ্গলবারের রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে একসময় ২-০ গোলে এগিয়েছিল মিশর। তবে শেষ পর্যন্ত দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে ৩-২ গোলে জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে যায় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজের জয়সূচক গোলেই শেষ হয় মিশরের স্বপ্নযাত্রা।

রেফারিং নিয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ

ম্যাচের পর প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইএফএ জানায়, আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচে রেফারির একাধিক সিদ্ধান্ত এবং ভিএআরের যথাযথ ব্যবহার না হওয়ায় তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচে রেফারিং এবং ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) ব্যবহারের ধরন নিয়ে আমরা নীরব থাকতে পারি না। ম্যাচের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো ম্যাচের গতিপথে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে এবং সেগুলো ন্যায্যতা ও ধারাবাহিকতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।’

মিশর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন আরও দাবি করেছে, দেশি-বিদেশি বহু ফুটবল বিশ্লেষক ও সাবেক রেফারিও ম্যাচের বিতর্কিত ঘটনাগুলো নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাই বিশ্বকাপের মতো সর্বোচ্চ পর্যায়ের আসরে রেফারিংয়ে সর্বোচ্চ মানের স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা জরুরি।

‘সব দলের জন্য সমান আচরণ চাই’

বিবৃতিতে ইএফএ জানায়, মিশর সবসময় ফেয়ার প্লে, ক্রীড়াসুলভ আচরণ এবং ফুটবলের মর্যাদাকে সম্মান করে এসেছে। সেই কারণেই তারা আশা করে, প্রতিটি দল সমান সুযোগ ও সমান বিচার পাবে।

তাদের ভাষায়, ‘মিশরীয় ফুটবল সবসময় ন্যায্য প্রতিযোগিতার নীতিকে সম্মান করেছে। তাই প্রত্যেক দলেরই সমান আচরণ পাওয়ার অধিকার রয়েছে। ম্যাচে যা ঘটেছে, তা আমাদের খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও কোটি সমর্থকের মধ্যে তীব্র হতাশা সৃষ্টি করেছে।’

ইএফএ আরও জানায়, জাতীয় দলের অধিকার রক্ষা করা তাদের দায়িত্ব এবং এটিকে কোনোভাবেই ছোট করে দেখা যাবে না। ‘মিশরের জার্সি গায়ে খেলা প্রতিটি ফুটবলার এবং তাদের সমর্থক ন্যায্যতা, সম্মান ও আইনের সমান প্রয়োগ পাওয়ার অধিকার রাখে।’

কোন সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে আপত্তি?

মিশরের অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দুটি বড় ঘটনা। প্রথমটি, দ্বিতীয়ার্ধে মোস্তফা জিকোর করা একটি গোল ভিএআর পর্যালোচনার পর বাতিল করে দেওয়া হয়। দ্বিতীয়টি, আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলের ঠিক আগে মোহাম্মদ সালাহর ওপর অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের ফাউলের অভিযোগ। মিশরের দাবি, ওই ঘটনাটি ভিএআরে দেখাই হয়নি।

কোচ হোসাম হাসানের বিস্ফোরক মন্তব্য

ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে ক্ষোভ উগরে দেন মিশরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান। তিনি অভিযোগ করেন, মাঠের ভেতরের এবং বাইরের কিছু বিষয় ম্যাচের ফলকে প্রভাবিত করেছে।

হাসান বলেন, ‘আমরা বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের চেয়ে ভালো খেলেছি। কিন্তু মাঠের ভেতরের কিছু সিদ্ধান্ত এবং মাঠের বাইরের কিছু বিষয় ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে। হয়তো তারা চেয়েছিল বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলটি টুর্নামেন্টে টিকে থাকুক, হয়তো মেসিকে প্রতিযোগিতায় রাখতে চেয়েছিল।’

তার দাবি, সালাহর ওপর হওয়া সম্ভাব্য পেনাল্টির আবেদন ভিএআরে দেখা হয়নি, আবার জিকোর গোলও রহস্যজনকভাবে বাতিল করা হয়েছে।

ফিফার নীরবতা

মিশর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি এবং কোচ হোসাম হাসানের অভিযোগের পরও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি ফিফা।

তবে ম্যাচটির রেফারিং নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক সাবেক ফুটবলার, বিশ্লেষক ও সমর্থকও বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

আইএইচএস/