বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনার বিপক্ষে নাটকীয় পরাজয়ের পর ক্ষোভে ফেটে পড়েছে পুরো মিশর শিবির। ম্যাচ শেষে সরাসরি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে মিশরের ফরোয়ার্ড মোস্তফা জিকো অভিযোগ করেছেন, ২০২৬ বিশ্বকাপ ‘পুরোপুরি পাতানো’ এবং রেফারিংয়ের মাধ্যমে ইচ্ছাকৃতভাবে আর্জেন্টিনাকে সুবিধা দেওয়া হয়েছে। তার এই মন্তব্য ইতোমধ্যেই বিশ্ব ফুটবলে তুমুল আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই চমক দেখায় মিশর। ইয়াসের ইব্রাহিমের গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর ব্যবধান বাড়ান জিকো। প্রথমার্ধেই লিওনেল মেসির নেওয়া একটি পেনাল্টি দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইর।

৭৯ মিনিট পর্যন্ত ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল আফ্রিকার দলটি। কিন্তু শেষ মুহূর্তে বদলে যায় পুরো চিত্র। প্রথমে ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো ব্যবধান কমান। এরপর ৮৩ মিনিটে পেনাল্টি মিসের হতাশা কাটিয়ে সমতা ফেরান মেসি। যোগ করা সময়ে এনজো ফার্নান্দেজের হেডে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

তবে সেই গোল নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়। গোলের আগে আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের বিরুদ্ধে মোহাম্মদ সালাহকে ফাউল করার অভিযোগ তুলে ভিএআরের হস্তক্ষেপ দাবি করেছিলেন মিশরের ফুটবলাররা। কিন্তু রেফারি বা ভিএআর কেউই সেটি আমলে নেননি।

ম্যাচ শেষে বিবিসির উদ্ধৃতিতে মোস্তফা জিকো রেফারির তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ‘রেফারি একদমই ন্যায্য ছিলেন না। তিনি আমাদের সঙ্গে সুবিচার করেননি। শুরু থেকেই অন্যায় হয়েছে। ম্যাচের প্রথম অংশে আমরা দারুণ খেলেছি। কিন্তু শুরু থেকেই আমাদের বিরুদ্ধে অন্যায় হয়েছে। আর্জেন্টিনাকে হারাতে ২-০ ব্যবধানও যথেষ্ট নয়। পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে, এই টুর্নামেন্ট পাতানো (ফিক্সড)।’

জিকোর দাবি, ম্যাচের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সিদ্ধান্তগুলো ধারাবাহিকভাবে মিসরের বিশক্ষে গেছে।

"It's clear that this tournament has been fixed."

Egypt's Mostafa Zico was not happy with some of the decisions in their game against Argentina. pic.twitter.com/VbDdFbkRBC

— BBC Sport (@BBCSport) July 7, 2026

শুধু জিকো নন, ম্যাচ শেষে মিসরের প্রধান কোচ হোসাম হাসানও রেফারিং নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তার ভাষায়, ‘আমরাই বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের চেয়ে ভালো খেলেছি। কিন্তু মাঠের ভেতরের কিছু সিদ্ধান্ত এবং মাঠের বাইরের কিছু বিষয় ম্যাচের ফল বদলে দিয়েছে। হয়তো তারা বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের টুর্নামেন্টে রাখতে চেয়েছিল। হয়তো তারা চেয়েছিল মেসি আরও এগিয়ে যাক।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি সুন্দরভাবে বলতে চাই, দুর্ভাগ্য। কিন্তু বাস্তবতা হলো আমাদের সঙ্গে অবিচার করা হয়েছে। এটি একটি অন্যায় সিদ্ধান্তের ফল।’

হোসাম হাসান জানান, ম্যাচ শেষে মাঠেই তিনি ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়েরের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তার পরিচালনাকে ‘অন্যায্য’ বলে সরাসরি জানিয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনের শেষ দিকে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমি দেশে ফিরে যাচ্ছি। এই বিশ্বকাপের আর একটি ম্যাচও দেখব না। আমাদের সঙ্গে যা হয়েছে, তা মোটেও ন্যায্য ছিল না। আমরা একটি পেনাল্টি পাওয়ার কথা ছিল, আমাদের একটি গোল বাতিল করা হয়েছে, এখনও বুঝতে পারছি না কেন সেই গোল বাতিল করা হলো।’

মিশর শিবিরের এই বিস্ফোরক অভিযোগ নতুন করে বিতর্কে ফেলেছে ২০২৬ বিশ্বকাপকে। এর আগেও আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচে ভিএআরের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন কাতার বিশ্বকাপ ফাইনালের রেফারিং দলের সদস্য মেক্সিকান রেফারি ফার্নান্দো গেরেরো। তার দাবি ছিল, ভিএআর প্রোটোকল সঠিকভাবে অনুসরণ করা হয়নি এবং সেই ভুল সিদ্ধান্তে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মিশর।

এবার মিশরের খেলোয়াড় ও কোচের প্রকাশ্য অভিযোগ সেই বিতর্ককে আরও উসকে দিল। তবে এখন পর্যন্ত ফিফা বা ম্যাচ পরিচালনাকারী কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

আইএইচএস/