২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে উরুগুয়ের বিদায় যেন অনেকটাই অনুমিত ছিল। তবে এই বিদায়টি দেশজুড়ে তীব্র হতাশার জন্ম দিয়েছে, কারণ দলটি খুব তাড়াতাড়িই টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছে। দুটি ড্র ও একটি পরাজয়ে শেষ হওয়া হতাশাজনক গ্রুপ পর্বের পাশাপাশি খেলোয়াড়দের সঙ্গে মার্সেলো বিয়েলসার টানাপোড়েনও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

উরুগুয়ে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এখনো বিয়েলসার ভবিষ্যৎ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। তবে অনেকেরই ধারণা, তিনি আর দায়িত্বে থাকবেন না। এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে সংস্থাটি এমন একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা পুরো দলের ওপর প্রভাব ফেলেছে।

প্লায়া দেল কারমেনে অবস্থানরত উরুগুয়ে দলের প্রতিনিধিদলকে উরুগুয়ে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে যে, প্রাথমিক ভ্রমণ পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। গুয়াদালাহারার অ্যাক্রন স্টেডিয়ামে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারের পর দলের জন্য নির্ধারিত চার্টার ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।

এর ফলে উরুগুয়ে দলের ২৬ জন খেলোয়াড়, বিয়েলসার কোচিং স্টাফ এবং দলের অন্যান্য সদস্যরা আর একসঙ্গে মন্টেভিডিও ফিরবেন না। প্রত্যেককে নিজ নিজ ব্যবস্থায় বাণিজ্যিক (কমার্শিয়াল) ফ্লাইটে দেশে বা নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরতে হবে। এক বিবৃতিতে অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, এটি কোনোভাবেই দলের প্রতি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নয়; বরং শুরু থেকেই এমন পরিকল্পনা ছিল।

বিবৃতিতে বলা হয়, 'যাওয়ার সময় প্রতিনিধিদলে ১৫০ জনেরও বেশি সদস্য এবং ৫,০০০ কেজির বেশি লাগেজ ও সরঞ্জাম বহন করতে হওয়ায় একটি বিশেষ চার্টার ফ্লাইটের প্রয়োজন ছিল। তবে শুরু থেকেই ফেরার যাত্রার জন্য চার্টার ফ্লাইটের পরিকল্পনা করা হয়নি, কারণ তখনো দলের যাত্রা শুরুর স্থান নিশ্চিত ছিল না।'

আরও বলা হয়, 'এখন যাত্রীসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায়, অবশিষ্ট প্রতিনিধিদলের সদস্যরা আগামীকাল, ২৮ জুন থেকে বাণিজ্যিক ফ্লাইটে নিজ নিজ গন্তব্যে রওনা হবেন। এটিই সবচেয়ে দ্রুত এবং কার্যকর ব্যবস্থা। তারা বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে সোমবার নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছাবেন।'

দলের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় উরুগুয়ে না গিয়ে সরাসরি মেক্সিকো থেকেই ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন দেশে ফিরে যাবেন, যেখানে তারা বসবাস করেন এবং ক্লাব ফুটবল খেলেন। দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর মৌসুম শেষে তারা কয়েক দিনের বিশ্রাম নেবেন, এরপর নিজ নিজ ক্লাবের প্রাক-মৌসুম (প্রি-সিজন) অনুশীলনে যোগ দেবেন।

এদিকে উরুগুয়ের নতুন কোচ হিসেবে মার্সেলো গালার্দোর নাম জোরালোভাবে আলোচনায় এসেছে। রিভার প্লেটের আর্থিক সীমাবদ্ধতা থেকে সরে আসার পর তাকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে অ্যাসোসিয়েশন তাড়াহুড়ো করে নতুন কোচ নিয়োগ দিতে চায় না। ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৭ সালের মার্চ বা এপ্রিল মাসে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের আগে বিয়েলসার উত্তরসূরি নিয়োগ দেওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

একই সঙ্গে সংস্থাটিতে আর্থিক চুক্তি থেকে শুরু করে যুব দলগুলোর কাঠামো পর্যন্ত ব্যাপক পুনর্গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে মার্সেলো ব্রোলিকে অনূর্ধ্ব-২০ দলের প্রধান কোচ এবং পরবর্তী বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব শুরুর সময় অন্তর্বর্তীকালীন সিনিয়র দলের দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি এখনো এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত জানাননি।

আরআর/এসকেডি/জেআইএম