‘আজ আমাদের কপাল ভালো ছিল,’ গত ১১ জুলাই নরওয়ের বিপক্ষে ২-১ গোলের শ্বাসরুদ্ধকর জয়ের পর কথাটি বলেছিলেন ইংল্যান্ড দলের ম্যানেজার থমাস টুখেল। তবে ভাগ্য শুধু টুখেলের সহায় ছিল না, সমান সৌভাগ্য ছিল ব্রিটিশ বুকি বা জুয়াড়িদেরও। ইংল্যান্ড সেমিফাইনালে উঠলেও বাজির নিয়মে নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা ১-১ গোলে ড্র হয়েছিল। অতিরিক্ত সময়ে ইংল্যান্ডের জয়সূচক গোলটি বুকিদের কোটি কোটি টাকা লোকসান থেকে বাঁচিয়ে দিয়েছে।
বুকিদের নতুন কৌশল
এবারের ৪৮ দলের বর্ধিত বিশ্বকাপে ফেভারিট দলগুলো ৯০ মিনিটের মধ্যে ৬৪ শতাংশ ম্যাচ জিতেছে। যেখানে আগের তিনটি বিশ্বকাপে এই হার ছিল মাত্র ৫৩ শতাংশ। অন্যদিকে আন্ডারডগ বা দুর্বল দলগুলো জিতেছে মাত্র আট শতাংশ ম্যাচে। সাধারণ নিয়মে ফেভারিটরা জিতলে বুকিদের লোকসান হয়। কিন্তু এবার বুকিরা এক নতুন কৌশলে নিজেদের পকেট ভারী করেছে।
আরও পড়ুন
বিশ্বকাপের আড়ালে নোংরা রাজনীতি! যে কালো সত্য গোপন রাখতে চায় ফিফা
তারা গ্রাহকদের ‘বেট বিল্ডার’ বা একই ম্যাচের একাধিক ঘটনার ওপর বাজি ধরার দিকে ধাবিত করেছে। যেমন কোনো গ্রাহক হয়তো বাজি ধরেছেন—ইংল্যান্ড জিতবে, জুড বেলিংহাম গোল করবেন এবং ম্যাচে কর্নার ও বুকিংয়ের সংখ্যা নির্দিষ্ট সীমার বেশি হবে। নরওয়ে ম্যাচে এর সব কটি শর্ত মেলেনি। ফলে ম্যাচ গ্রাহকদের পক্ষে গেলেও বুকিরা বড় লাভ তুলে নিয়েছে।
তবু স্বস্তিতে নেই বুকিরা
চলতি বিশ্বকাপে বুকিরা লাভ করলেও তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম উদ্বেগ রয়েছে। ব্রিটিশ সরকারের নতুন কর নীতি জুয়া ব্যবসার জন্য বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে। গত বছরের বাজেটে অনলাইন ক্যাসিনোর কর ২১ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৪০ শতাংশ করা হয়েছে। ২০২৭ সালের এপ্রিল থেকে অনলাইন স্পোর্টস বেটিংয়ের করও ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হবে।
আরও পড়ুন
বিশ্বকাপ কি ‘ফিক্সড’, কেন মাত্র ৮ দেশই বারবার ট্রফি জেতে?
এর পাশাপাশি জুয়ার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে গ্রাহকদের বাঁচাতে কঠোর ‘আর্থিক ঝুঁকি মূল্যায়ন’ শুরু করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা গ্যাম্বলিং কমিশন। বুকিদের দাবি, এই নিয়মগুলো অতিরিক্ত ব্যক্তিগত গোপনীয়তায় হস্তক্ষেপ করে। ফলে গ্রাহকেরা লাইসেন্সবিহীন অবৈধ সাইটের দিকে ঝুঁকছেন। অনেক গ্রাহকই তাদের ব্যাংক হিসাবের তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের হাতছানি
যুক্তরাজ্যে ব্যবসার পরিবেশ কঠিন হওয়ায় এখন জুয়াড়িদের নতুন লক্ষ্য হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্বের সবচেয়ে বড় অনলাইন বেটিং কোম্পানি ‘ফ্লাটার’ আগামী মাসে লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে নিজেদের তালিকাভুক্তি প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। তারা এখন শুধু নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জেই থাকবে।
আরও পড়ুন
ফুটবলে এটাই হতে পারে শেষ বিশ্বকাপ, কারণ কী?
ফুটবল মাঠের অনুমেয় ফলাফল সামলে নেওয়ার কৌশল হয়তো বুকিরা রপ্ত করে ফেলেছে, তবে তাদের আসল লড়াই এখন ব্রিটিশ সরকারের কঠোর নীতিমালার বিরুদ্ধে।
সূত্র: দ্য ইকোনমিস্ট
কেএএ/








