ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনায় বুঁদ হয়ে আছে পুরো বিশ্ব। মেসি, এমবাপ্পে, হলান্ডদের গোল উৎসব দেখে অনেকে যেমন উচ্ছ্বাসে ভাসছেন, তেমনি নেইমার, রোনাল্ডোদের বিদায়ে অনেকে বিষণ্ন। অনেকে আবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুরোধে যুক্তরাষ্ট্রের এক খেলোয়াড়ের লাল কার্ড স্থগিতের নজিরবিহীন কাণ্ডে প্রতিবাদে ফুঁসছেন। এত কিছুর মধ্যে ফিলিস্তিনের নিপীড়িত মানুষের কথা ভাবার সময় নেই কারও। তবে একজন চোখ থেকে রঙিন চশমা খুলে বিশ্বকাপের মঞ্চে বসেই আওয়াজ তুললেন ফিলিস্তিনের পক্ষে। মানবিকতার বন্ধ দুয়ার খুলে বিশ্ববাসীকে অসহায় ফিলিস্তিনিদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানালেন মিসরের কোচ হোসাম হাসান।

কাল রাতে আটলান্টায় শেষ ষোলোর লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়ার আগে ফিফার অফিসিয়াল সংবাদ সম্মেলনে প্রথা ভেঙে ফুটবলের চেয়ে ফিলিস্তিন ইস্যুতে বেশি কথা বলেছেন সালাহদের গুরু। ফিফার সংবাদ সম্মেলনে রাজনৈতিক আলোচনা নিষিদ্ধ হলেও সম্ভাব্য শাস্তির পরোয়া না করে মানবিকতার মুখ হয়ে উঠলেন মিসরের কোচ ও সর্বোচ্চ গোলদাতা হোসাম। যুদ্ধ থামলেও ফিলিস্তিনের মানুষের ওপর ইসরাইলের বর্বর নিপীড়ন থামেনি। গাজা এখনো মৃত্যু-উপত্যকা। শেষ বত্রিশে অস্ট্রেলিয়াকে টাইব্রেকারে হারানোর পর ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে উদ্যাপন করেছিলেন হোসাম। সেই উদ্যাপনের পুনরাবৃত্তি দেখা যাবে কি না-এমন প্রশ্নের উত্তরে মিসরের কোচ বলেন, ‘বিশ্বের যে কোনো প্রান্তের মানুষ যদি ফিলিস্তিনিদের জন্য সমবেদনা অনুভব না করেন, তাহলে ধরে নিতে হবে তাদের মানবিকতার একটি অংশের মৃত্যু হয়েছে। আমার ভেতর থেকে যা বেরিয়ে এসেছে, তা ছিল নিছক মানবিক প্রতিক্রিয়া। আরব মুসলিম, খ্রিষ্টান বা অন্য যে কোনো পরিচয়ের আগে আমি একজন মানুষ। ফুটবলের মাধ্যমে বিশ্বের শক্তিশালী ও ক্ষতাবানদের আমি একটি বার্তাই দিতে চাই-দয়া করে ফিলিস্তিনের মানুষেদের বাঁচতে দিন। আমি বিশ্বজুড়ে অ্যাথলেট ও গণমাধ্যমকর্মীদের এই বার্তা সবখানে পৌঁছে দিতে সাহায্য করার অনুরোধ করছি।’ হোসাম থামতেই তুমুল করতালিতে কেঁপে ওঠে সংবাদ সম্মেলন কক্ষ। ইতিবাচক সাড়া পেয়ে হোসাম যোগ করেন, ‘সবাই মানুষের অধিকার, পশুর অধিকার ও ন্যায়বিচার নিয়ে কথা বলে। ফিলিস্তিনের সাধারণ মানুষের জীবনযুদ্ধ নিয়েও কথা বলা উচিত আমাদের।’