ফুটবল বিশ্বকাপ জ্বরে আক্রান্ত গোটা বিশ্ব। তবে দ্বিতীয় রাউন্ড শেষ হওয়ার পর ফুটবলপ্রেমীদের অনেকে হতাশায় পড়েছেন। কারণ ইতোমধ্যে তাদের পছন্দের অনেক দল বিশ্বকাপের আসর থেকে বিদায় নিয়েছে। চলুন, এই ফাঁকে জেনে নেওয়া যাক বিশ্বের সেরা পাঁচ নারী গোলকিপারকে। কয়েক মাস আগে বিশ্বের ১০০ জন নারী ফুটবলারের তালিকা প্রকাশ করে। ১২৭ জন ফুটবল বিশেষজ্ঞের ভোটে এ তালিকা প্রস্তুত করা হয়। এ তালিকায় জায়গা করে নেয় পাঁচজন গোলকিপার। তাদের নিয়ে এই প্রতিবেদন—
হানা হ্যাম্পটন শীর্ষ এক শর তালিকায় না থেকে সরাসরি কোনো খেলোয়াড়ের সেরা পাঁচে উঠে আসা বিরল। কিন্তু ২০২৫ সালে চেলসি ও ইংল্যান্ডের এক নম্বর গোলরক্ষক হানা হ্যাম্পটন ঠিক সেটাই করে দেখান। চেলসির প্রধান কোচ সোনিয়া বম্পাস্টার তাকে “অনেক দিক থেকেই বিশ্বের সেরা” বলে প্রশংসা করেছেন। আর এই র্যাঙ্কিং সেই মূল্যায়নকে আরো জোরালো করেছে। ২০২৪ সালে প্রথমবারের মতো ভোট পেতে শুরু করেন হানা। আর তখন ১২৩তম স্থানে ছিলেন তিনি। ২০২৫ সালে তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্স এবং ইংল্যান্ডের ‘ইউরো ২০২৫’ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তাকে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়দের কাতারে নিয়ে আসে। একই সঙ্গে গোলরক্ষক হিসেবে ইতিহাসের সর্বোচ্চ অবস্থান অর্জন করেন ২৫ বছরের এই তরুণী।
আন ক্যাটরিন বার্গার ২০২৪ সালের প্যারিস অলিম্পিকে জার্মানির হয়ে অসাধারণ খেলেছিলেন আন ক্যাটরিন বার্গার। সেখান থেকে আরো নয় ধাপ এগিয়ে ২০২৫ সালেও নিজেকে প্রমাণ করেন, জানান দেন কতটা অসাধারণ তিনি। জার্মানির এই গোলরক্ষকের পারফরম্যান্সে কোনো ভাটা পড়েনি। এনডব্লিউএসএল-এ ১০টির বেশি ক্লিন শিট অর্জন করেন। প্রথমবারের মতো এনডব্লিউএসএল চ্যাম্পিয়নশিপ জয় করেন, ফাইনালেও ক্লিন শিট ধরে রাখেন ৩৫ বছরের এই খেলোয়াড়। তবে তার সেরা মুহূর্ত ছিল ‘ইউরো ২০২৫’-এর কোয়ার্টার-ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে। সেখানে এমন একটি গোল সেভ করেন, যা সাম্প্রতিক সময়ে নারী ফুটবলের অন্যতম সেরা সেভ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ক্যাটা কল “আত্মবিশ্বাসী, ঝুঁকি নিতে ভালোবাসি এবং আমার ব্যক্তিত্বও বেশ শক্তিশালী”—দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের সম্পর্কে এভাবেই বলেছিলেন ক্যাটা কল। একসময় মনে হচ্ছিল তার ‘ইউরো ২০২৫’ খেলা অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। কিন্তু তিনি ফিরে এসে স্পেনকে আরেকটি ফাইনালে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। যদিও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টাইব্রেকারে স্পেন শেষ পর্যন্ত হেরে যায়। তারপরও তিনি সেখানে দুটি শট ঠেকিয়েছিলেন। গত লিগ মৌসুমে ১২টি ক্লিন শিট অর্জন করেন; যা তাকে ইয়াশিন ট্রফিতে তৃতীয় স্থান এনে দেয়। চলতি বছরও একই ধরনের সাফল্যের পথে এগিয়েছেন ক্যাটা কল।
ড্যাফনি ফ্যান ডমসেলার ২০২৪ সালে শীর্ষ ১০০ থেকে বাদ পড়ার পর ২০২৫ সালে আবারো তালিকায় জায়গা করে নেন ড্যাফনি ফ্যান ডমসেলার। শুধু ফিরে আসাই নয়, ২০২২ ও ২০২৩ সালের অবস্থানকেও ছাড়িয়ে যান এই তারকা। পরের বছর এই ডাচ আন্তর্জাতিক খেলোয়াড় আর্সেনালকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জিততে সাহায্য করেন। ইউরোপে তরুণ এই গোলরক্ষকের পারফরম্যান্স তাকে উয়েফার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ বর্ষসেরা দলে জায়গা করে দেয়। কেবল তাই নয়, উইমেন্স সুপার লিগে ১০টির বেশি ক্লিন শিট অর্জন করেন তিনি।
চিয়ামাকা নাদোজি নাইজেরিয়ার এক নম্বর গোলরক্ষক চিয়ামাকা নাদোজি। ২০২৪ সালে অল্পের জন্য শীর্ষ ১০০-এর তালিকায় জায়গা পাননি। তবে ২০২৫ সালে বিশ্বের সেরা ১০০ নারী খেলোয়াড়ের তালিকায় নিজের জায়গা করে নেন। বিশ্বের অন্যতম সেরা গোলরক্ষকদের একজন তিনি। প্যারিস এফসি-এর হয়ে ১১টি ক্লিন শিট অর্জনের কৃতিত্বই তাকে গ্রীষ্মে ব্রাইটন অ্যান্ড হোভ অ্যালবিয়নে বড় ট্রান্সফারের সুযোগ এনে দেয়। নাইজেরিয়ার হয়ে ‘আফ্রিকা কাপ অব নেশনস’ (এএফসিওএন) শিরোপা জিততে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন, এটি ছিল তার দ্বিতীয় এএফসিওএন শিরোপা। পুরো টুর্নামেন্টে সেরা গোলরক্ষকও নির্বাচিত হন। তার ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে ইয়াশিন ট্রফির ভোটে চতুর্থ স্থান অর্জন করেন। প্রথম আফ্রিকান নারী গোলরক্ষক হিসেবে এই পুরস্কারের সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা করে নেন চিয়ামাকা। চিয়ামাকা নাদোজি বলেছেন, “বিশ্ব আমার পারফরম্যান্স দেখছে। এটি আফ্রিকার জন্য বড় প্রভাব ফেলবে। কারণ আমাদের এখানে অসংখ্য ভালো খেলোয়াড় আছে। সামর্থ্য প্রদর্শনের একটি সুযোগ তাদের দেওয়া দরকার।”
*দ্য গার্ডিয়ান অবলম্বনে








