ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ভয়াবহ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রাশিয়ার আসন্ন ‘ব্যাপক হামলার’ সতর্কবার্তা দেওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এ হামলা হয়েছে। কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানান, বৃহস্পতিবার ভোররাতে চালানো এ হামলায় ২০ জন নিহত এবং আরও ৯০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে দুই শিশু রয়েছে। এছাড়া শহরের বিভিন্ন আবাসিক ভবন, অবকাঠামো ও অন্য স্থাপনা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খবর আলজাজিরা, এপির।
ক্লিচকো বলেন, রুশ ক্ষেপণাস্ত্রের সরাসরি আঘাতে একটি আবাসিক অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের ছয়টি তলা আংশিকভাবে ধসে পড়েছে। রাজধানীর সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তকাচেঙ্কো জানান, শহরজুড়ে অন্তত ৩৬ স্থানে ক্ষয়ক্ষতির রেকর্ড করা হয়েছে। ইউক্রেনীয় বিমান বাহিনী জানায়, রাশিয়া রাতভর ইউক্রেনের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ৭৪টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৪৯৬টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ৪৮টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৪৭৬টি ড্রোন ভূপাতিত বা নিষ্ক্রিয় করতে সক্ষম হলেও ২৫টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১২টি ড্রোন ৩৩টি স্থানে আঘাত হানে। বিমান বাহিনী এক বিবৃতিতে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে বলেছে, ‘এই ভয়াবহ হামলায় যারা তাদের স্বজন ও প্রিয়জনকে হারিয়েছেন, তাদের প্রতি আমরা সমবেদনা জানাই। আমরা এর প্রতিশোধ নেব।’ আল জাজিরার কিয়েভ প্রতিনিধি অড্রি ম্যাকঅ্যালপাইন জানান, বুধবার মধ্যরাতের কিছু পর থেকেই রাজধানীর আকাশে ড্রোন প্রবেশ করতে শুরু করে। তিনি আরও বলেন, মাথার ওপর প্রতিরোধমূলক হামলার শব্দ শোনা যাচ্ছিল এবং রাত প্রায় ২টার দিকে একের পর এক বড় বিস্ফোরণে পুরো শহর কেঁপে ওঠে। সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় অনেক বাসিন্দা আগেই মেট্রো স্টেশনগুলোতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শহরের অন্তত ৩০টি স্থানে কয়েক ডজন ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় টেলিগ্রামে জানায়, তারা কিয়েভ ও অন্যান্য স্থানে দূরপাল্লার উচ্চ-নির্ভুলতাসম্পন্ন আকাশ, স্থল ও সমুদ্রভিত্তিক অস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করে একটি ‘বড় হামলা’ চালিয়েছে। চার বছরেরও বেশি সময় ধরে রাজধানী কিয়েভসহ ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে রাশিয়া। এই যুদ্ধ বর্তমানে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংঘাতে পরিণত হয়েছে। এদিকে রাশিয়ার এ হামলার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইউরোপীয় নেতারা। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস বলেন, রাশিয়ার সামরিক-শিল্প খাতকে সহায়তা করা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব দেবেন তিনি। পর্তুগালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এ হামলার নিন্দা জানিয়ে একে ‘জঘন্য হামলা’ বলে বর্ণনা করেছে।
যুদ্ধে ২০ লাখের বেশি হতাহত : রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে উভয়পক্ষের সম্মিলিত সামরিক হতাহতের সংখ্যা ২০ লাখের বেশি ছাড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে রুশ বাহিনীর মোট হতাহতের সংখ্যা প্রায় ১৪ লাখে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে ৪ লাখ থেকে সাড়ে ৪ লাখ সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। মোট হতাহতের হিসাবে নিহত এবং আহতসহ নিখোঁজ সেনাদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে একই সময়ে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর মোট হতাহতের সংখ্যা ৫ লাখ ২৫ হাজার থেকে ৬ লাখ ২৫ হাজার। এর মধ্যে ১ লাখ ২৫ হাজার থেকে দেড় লাখ সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।








