পৃথিবীর সবচেয়ে রোমাঞ্চকর খেলা ফুটবল কখনো কখনো নিয়তির চেয়েও নিষ্ঠুর হয়ে ওঠে। ৮৫ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে থাকা একটি দল ১৬১ সেকেন্ডের ঝড়ে দুই গোল হজম করে ৯০ মিনিটের আগেই লিড হারায়। এরপর রেফারির চরম বিতর্কিত পেনালটির সিদ্ধান্তে ১২৫ মিনিটে আরেকটি গোল হজম করে বিশ্বকাপের রঙিন মঞ্চ থেকে কাঁদতে কাঁদতে বিদায় নেয় সেনেগাল। গত পরশু রাতে সিয়াটলে ফুটবলের এমন চরম নিষ্ঠুর রূপ দেখেছে আফ্রিকার দেশ। শেষ বত্রিশের স্নায়ুক্ষয়ী লড়াইয়ে পরাজয়ের দুয়ার থেকে অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম রোমাঞ্চকর প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেছে বেলজিয়াম। ৩-২ গোলের ব্যাখ্যাতীত হারে বিশ্বকাপ থেকে ছুটি হয়ে গেল সেনেগালের।

একটু আগে বিদায়ের ক্ষণ গুনতে থাকা বেলজিয়াম যখন শেষ বাঁশি বাজার পর উল্লাসে ফেটে পড়ে, সেনেগাল শিবিরে তখন কান্নার রোল। সবচেয়ে বেশি কাঁদছিলেন লামিনে কামারা, যার ফাউলের কারণে শেষ মুহূর্তে পেনালটি পায় বেলজিয়াম। একটি বিতর্কিত পেনালটির প্রতিবাদে মাঠ ছাড়ার দায়ে এ বছর আফ্রিকান নেশন কাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরও কেড়ে নেওয়া হয়েছিল সেনেগালের শিরোপা। এবার বিশ্বকাপের মঞ্চে চরম নিষ্ঠুরতার শিকার হলেন সাদিও মানেরা। জোড়া গোলে বেলজিয়ামের রূপকথার প্রত্যাবর্তনের নায়ক ইউরিটিলেমান্স। তবে বেলজিয়ানদের শেষ হাসিতে বড় ভূমিকা রেখেছেন হন্ডুরাসের রেফারি সাইদ মার্তিনেজও।

২৪ মিনিটে হাবিব দিয়ারা ও ৫১ মিনিটে ইসমাইলা সারের গোলে জয়ের খুব কাছে চলে গিয়েছিল সেনেগাল। বেলজিয়াম ঘুরে দাঁড়ায় নির্ধারিত সময়ের শেষ চার মিনিটে। ৮৬ মিনিটে রোমেলু লুকাকো ব্যবধান কমানোর পর ৮৯ মিনিটে টেলিমান্সের সমতাসূচক গোলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। আর কোনো গোল না হওয়ায় ম্যাচ গড়াচ্ছিল টাইব্রেকারের দিকে। কিন্তু শেষ বাঁশি বাজার আগমুহূর্তে আসে সেই বিতর্কিত মুহূর্ত। ১১৯ মিনিটে বক্সের মধ্যে টিলেমান্সকে আটকাতে পেছন থেকে স্লাইডিং চ্যালেঞ্জ করেন কামারা। টিলেমান্স মাটিতে পড়ে গেলেও শুরুতে ফাউলের বাঁশি বাজাননি রেফারি। পরে ডিএআর-এর পরামর্শে মাঠের পাশের মনিটরে ঘটনার রিপ্লে দেখে বেলজিয়ামের পক্ষে পেনালটির বাঁশি বাজান তিনি। টিলেমান্স মৃদু ধাক্কায় ইচ্ছা করে পড়ে গেলেও কামারার ট্যাকল তার শরীর স্পর্শ করায় পেনালটির সিদ্ধান্ত সঠিক বলে মনে করেন রেফারি। কিন্তু সেনেগালের খেলোয়াড়রা প্রতিবাদে ফেটে পড়েন। তাতে অবশ্য কাজ হয়নি। ১২৫ মিনিটে পেনালটি থেকে গোল করে বেলজিয়ামকে উল্লাসে ভাসান অ্যাস্টন ভিলা মিডফিল্ডার টিলেমান্স।

বিশ্বকাপ থেকে এভাবে বিদায় মানতে পারছেন না সেনেগালের কোচ পাপে থিয়াও, ‘ওটা কোনোভাবেই পেনালটি ছিল না। বিশ্বকাপ থেকে এমন নিষ্ঠুর বিদায় আমাদের প্রাপ্য ছিল না।’