নিউইয়র্কের নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে আগামী ৬ জুলাই বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচে ব্রাজিলের মুখোমুখি হবে নরওয়ে। শক্তি, অভিজ্ঞতা ও ইতিহাসের বিচারে ব্রাজিল যে স্পষ্টতই এগিয়ে, তা স্বীকার করতে দ্বিধা নেই নরওয়ের প্রধান কোচ স্টেল সোলবাকেনের। তবে প্রতিপক্ষকে সমীহ করলেও ভয়ের কোনো কারণ দেখছেন না তিনি।

সোলবাকেনের বিশ্বাস, ফুটবল সব সময় কাগজে-কলমের হিসাব মেনে চলে না। নিজেদের সামর্থ্যের সর্বোচ্চটা উজাড় করে দিতে পারলে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেওয়াও অসম্ভব নয়।

ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে নরওয়ে কোচ বলেন, “ব্রাজিল এখনও এই ম্যাচের ফেবারিট। তবে আগের মতো একচ্ছত্র আধিপত্যশীল ফেবারিট তারা আর নয়। সম্ভাবনাকে শতকরা হিসাবে প্রকাশ করা কঠিন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমরা ব্রাজিলকে হারাতে সক্ষম। তবে এর জন্য মাঠে আমাদের শতভাগ উজাড় করে খেলতে হবে। ব্রাজিলকে হারানোর সুযোগ আমাদের অবশ্যই রয়েছে।”

গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে দারুণ ছন্দে থাকা নরওয়ের জন্য এটি টুর্নামেন্টের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা হতে যাচ্ছে। আর সেই পরীক্ষায় ব্রাজিলের আক্রমণভাগকে সামলানোই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন সোলবাকেন।

জাপানের বিপক্ষে ব্রাজিলের দ্বিতীয়ার্ধের খেলা বিশ্লেষণ করে তিনি বলেন, “ব্রাজিলের আক্রমণভাগের খেলোয়াড়েরা বিভিন্ন ধরনের সমন্বয় তৈরি করতে পারে। আমরা সেগুলো কতটা সামাল দিতে পারি, সেটিই দেখার বিষয়। তারা চারজন আক্রমণাত্মক খেলোয়াড় নিয়েও খেলতে পারে, যেমনটি জাপানের বিপক্ষে দ্বিতীয়ার্ধে দেখা গেছে। তাদের গতি ও আক্রমণাত্মক ছন্দের সঙ্গে আমরা কতটা তাল মেলাতে পারি, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”

মজার বিষয় হলো, নরওয়ের বিপক্ষে ব্রাজিলের অতীত পরিসংখ্যান খুব একটা সুখকর নয়। চারবার মুখোমুখি হয়ে একবারও জয় পায়নি সেলেসাওরা। দুটি ম্যাচে হেরেছে এবং দুটি ড্র করেছে।

১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে পরাজিত হয়েছিল ব্রাজিল। সে ম্যাচে ব্রাজিলের হয়ে একমাত্র গোল করেছিলেন বেবেতো। অন্যদিকে নরওয়ের হয়ে গোল করেন তোরে আন্দ্রে ফ্লো ও কেতিল রেকদাল।

এ ছাড়া ১৯৯৭ সালে এক প্রীতি ম্যাচে নরওয়ে ৪-২ গোলে ব্রাজিলকে হারিয়েছিল। অন্য দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছিল। দুই দলের সর্বশেষ দেখা হয় ২০০৬ সালের আগস্টে। সেই ম্যাচ ১-১ গোলে সমতায় শেষ হয়।

নরওয়ে যদি এবারও ব্রাজিলকে হারাতে পারে, তবে সেটি কি এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় অঘটন হিসেবে বিবেচিত হবে? এমন প্রশ্নের উত্তরে কোনো রাখঢাক না রেখেই সোলবাকেন বলেন, “হ্যাঁ, অবশ্যই। আমারও মনে হয়, সেটি হলে এই টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় চমকগুলোর একটি হবে।”

এই ম্যাচে দর্শকদের বিশেষ নজর থাকবে নরওয়ের তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড এবং ব্রাজিলের রক্ষণভাগের অন্যতম ভরসা গ্যাব্রিয়েল মাগালাইসের মুখোমুখি লড়াইয়ের দিকে। তবে ব্যক্তিগত দ্বৈরথের চেয়ে দলগত পারফরম্যান্সকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন নরওয়ে কোচ।

তার ভাষায়, “এই বিশ্বকাপে ব্রাজিলের রক্ষণজুটি অন্যতম সেরা। গ্যাব্রিয়েল মাগালাইস ও মার্কিনিয়োস দুজনই বিশ্বমানের ডিফেন্ডার। তবে শেষ পর্যন্ত এটি কোনো ব্যক্তিগত লড়াই নয়; এটি ব্রাজিল বনাম নরওয়ের ম্যাচ। মাঠে কিছু আকর্ষণীয় ব্যক্তিগত দ্বৈরথ দেখা যেতে পারে, কিন্তু দিনশেষে ফল নির্ধারণ করবে দলগত পারফরম্যান্স।”

The post ব্রাজিলকে হারালে বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় অঘটন হবে: নরওয়ে কোচ appeared first on ZoomBangla.